Results for বুক রিভিইউ

বুক রিভিউ: ঘোলাজল | সৈনিক কাইজার

 


বিপ্লবদের গ্রামের নাম মহিষখোলা। চিত্রা নদীর কুল ঘেষে অর্ধবৃত্তের ন্যায় গ্রামটা। অর্ধবৃত্তের দুই প্রান্ত দুটি খাড়া পূর্ব থেকে পশ্চিম বরাবর সোজা মোটা যে রাস্তাটা গেছে তার নাম বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধের দক্ষিণে বড়ো ড্রেন আর দক্ষিণে ছোটোখাটো বিল যার নাম ডোব। ড্রেনের গভীরতা অনেক। শাপলা তোলার সময় দেখা যায় একটা শাপলার দৈর্ঘ্য দুই থেকে সাত হাত লম্বা এবং বেশ মোটা, মিষ্টি। ড্রেনের পানিতে সরকারিভাবে মাছ চাষ করা হয়। বেড়িবাঁধের উত্তর পাশে বিপ্লবদের বাড়ি। বাড়ির পিছনেই বিশাল আকৃতির বিল। ধানের মৌশুমে ধান, পাটের মৌশুমে পাট। তাছাড়া অন্যান্য ফসলাদিও চাষাবাদ করা হয়।

কই সে কই? খেকিয়ে উঠল ওহাব মিঞা। বিকেলের দিকে জামান খুলনা থেকে ফিরে এসে মা আসমা খাতুনের কাছে বায়না ধরেছিল পিঠা খাওয়ার। মা ছেলের আবদার মেটাতে পিঠা বানিয়ে দিয়েছে। বাবা ফিরে এসে ধমকা- ধমকি শুরু করেছে এদিকে জামানের খেয়াল নেই সে একনাগাড়ে পিঠা খেয়েই চলেছে।

কী হইছে তোমার? ছাওয়ালডা এট্টু আগে বাড়িতে আইছে আর তুমি বাাড়ি মাথায় তুলিছো বললো আসমা।

কই তোমার নবাবজাদাকে ডাকো। তিনি নাকি এই অজ পাড়াগাঁয়ে থেকে কিছু করবেন। তো তিনি কি করবেন এটা জানতে পারি- মুখ বাঁকিয়ে বললো ওহাব মিঞা।

মাথা থেকে ঘাস নামাও কচ্ছি। আর জোয়াল রেখে গরু বাইন্ধে আসো তারপর ছাওয়ালডার সাথে কথা কও।

থাকপো না বাড়িতে। থাকো তোমরা তোমাদের বাড়িঘর নিয়ে।

ব্যাগ গোছানোই ছিল, খুলনা থেকে আসার পর ব্যাগ খোলা হয়নি। রান্নাঘর থেকে রাগে গরগর করতে করতে বেরিয়ে এলো জামান। মা আসমা খাতুন ছেলেকে ঠেকাতে গেল।

যাসনে বাপ।



বুক রিভিউ: ঘোলাজল | সৈনিক কাইজার বুক রিভিউ: ঘোলাজল  | সৈনিক কাইজার Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ৬:২৬ AM Rating: 5

বুক রিভিইউঃ অপেক্ষা

 

অপেক্ষা

লেখক : হুমায়ূন আহমেদ


মানুষের জীবন কি চক্রের মতো? চক্রের কোন শুরু নেই, শেষ নেই। মানব জীবন কি তাই? রহস্যময় চক্রের ভেতর মানব জীবন ঘুরপাক খেতে থাকে। শুরু নেই, শেষ নেই। চক্র ঘুরছে।


এই চক্রের ভেতরে ঘুরপাক খেতে খেতে অপেক্ষা করে কেউ কেউ। কিংবা সকলেই। কিসের অপেক্ষা?


আমাদের জীবনটাই একটি অপেক্ষা। সবারই কিছুর অপেক্ষা থাকে। অর্থের অপেক্ষা, ভালো সময়ের অপেক্ষা, সুখের অপেক্ষা, কারো ফিরে আসার অপেক্ষা। মৃত মানুষের জন্য আমরা অপেক্ষা করি না। করি জীবিত মানুষের জন্য। সুরাইয়া অপেক্ষা করছেন হাসানুজ্জামানের জন্য। ইমন তখন পাঁচ বছরের বাচ্চা ছেলে। প্রথম দাঁত পড়েছে। সুরাইয়ার ভেতর আরেকটি প্রান মাত্রই তার অস্তিত্ব প্রকাশ করছে। এসময় হঠাত হারিয়ে যান হাসানুজ্জামান। শুরু হয় সুরাইয়া অপেক্ষা করা। তার বিশ্বাস ইমনের যেদিন বিয়ে হবে সে রাতেই ফিরে আসবে হাসানুজ্জামান। 


সুরাইয়ার অপেক্ষা বাড়তে থাকে। ইমন ও সুপ্রভা বড় হয়। সুরাইয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আচরণের প্রভাব পরে ইমন ও সুপ্রভার উপর। এই অপেক্ষার পরিণতিই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায়। 


মানব জীবন কি চক্রের মতো? যার শুরু নেই, শেষ নেই। শুধু ঘুরতেই থাকে। চক্র নিজের মতো ঘুরে। শুধু আশেপাশেন মানুষগুলোয় পরিবর্তন হয়। ইমনের বিয়ের রাতে হাসানুজ্জামান কি ফিরে এসেছিলেন? সুরাইয়া কলিংবেলের তীব্র আওয়াজ শুনছেন। কে এখানে? কে?

বুক রিভিইউঃ অপেক্ষা বুক রিভিইউঃ অপেক্ষা Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১০:২২ AM Rating: 5

বুক রিভিউঃ ক্যালকাটায় নবকুমার



বুক রিভিউ:

বই: ক্যালকাটায় নবকুমার

লেখক: সমরেশ মজুমদার।

রিভিউয়ারঃ মুহাম্মদ আশফাক উদ্দিন 

ডাউনলোড লিংকঃ ক্লিক করুন

বঙ্কিমচন্দ্র পুরষ্কার পাওয়া বই, কৌতূহল বশতই পড়তে শুরু করেছিলাম, খারাপ লাগেনি পড়তে।


গ্রামের সহজ-সরল ছেলে নবকুমার  বি.এ পাশ করে গ্রামেই বেকার বসে আছে। পরীক্ষায় তেমন আহামরি ফলাফল হয়নি তার। নবকুমার বুঝেছে গ্রামে থেকে জীবিকাকে গ্র‍্যাজুয়েশনের সাথে জড়ালে যা দাঁড়ায় তা মোটেই সন্তোষজনক কিছু নয়। তাই সে কলকতা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানে সে যা পাবে তাই করে নেবে অন্তত চক্ষুলজ্জা কিংবা কাজের অভাব দুটোর কোনটাই হবেনা। কলকতায় যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রথমদিকে পিতামাতা বাধা হয়ে দাঁড়ালেও অনিচ্ছাকৃতভাবে নবকুমারকে যেতে দেন তারা।

এরপর অল্পকিছু অর্থ নিয়ে মাস্টারদা নামের একজন পরিচিত লোকের সাথে কলকতায় পাড়ি জমায় নবকুমার।

যাত্রাপথে একটা পরিবারের সাথে তার বেশ সখ্যতা, ঝুঁকি নিয়েও সাহায্য করবার মানসিকতা এবং অল্পসময়েই ক্ষণিক মায়ার প্রতি পিছুটান নবকুমারের সরলতাকে আরো ফুটিয়ে তোলেছে।


আবার কলকতায় গিয়ে মাস্টারদার মাধ্যমে একরাত শেফালি মায়ের ঘরে অবস্থানের সুযোগ, সেখান থেকেই ভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্যক্রমে শেফালি মায়ের মনজয় করে তার বাড়িতে অবস্থানের স্থায়ী সুযোগ। এখানে আমি ভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্যক্রমে কথাটা বলার একটা সুনির্দিষ্ট কারন রয়েছে যেটা জানতে হলে উপন্যাসটা আপনাকে পুরোটা পড়তে হবে।

কলকতায় প্রথম দিন থেকে নবকুমারের ভাগ্য সবসময়ই ভালো'র অনুকূলে, যেমন, ফ্রেশার সত্ত্বেও যাত্রার প্রম্পটারে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যাওয়া, মাইনে বৃদ্ধি এরপর হুট করে ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ তাও একদম মূলনায়কের চরিত্রে। তবে এখান থেকেই নবকুমার কিংবা পুরো গল্পের চরাই-উতরাই শুরু। তাকে জোর করে ছবির কাজে রাজি করানো, ম্যাম অথবা বাবুদের কিং সাইজ ইগো, তাদের ক্ষমতাচর্চা এসবকিছু গল্পকে হালকা বাঁক দেয়। নিশ্চয়তা এবং অনিশ্চয়তার মাঝামাঝি নবকুমার এগোতে থাকে।


নবকুমার খারাপ পাড়ায় থাকতো বলে হেয় তাচ্ছিল্য করা হতো অথচ নবকুমার অবাক হয় খারাপ পাড়ার খদ্দরেরা সব ভদ্রপল্লি থেকেই আসে।

কালোকে সাদার চাদরে ঢেকে রাখার রেওয়াজ কিংবা সামাজিক মুখোশের ব্যাপারটা লেখকের সময় থেকেই ছিলো এখান থেকেই বুঝা যায়। এত সহজে এত অর্জনের পরেও নবকুমারের সরলতাকে এরিস্টোক্রেসি হুট করে ঘায়েল করতে পারেনি। এটা ভালোই ছিলো, হাঁটুজলের চুনোপুঁটি হঠাৎ করে গলা জলে নেমে গেলে শোল-বোয়ালের তোয়াক্কা করেনা, এ ব্যাপারটা নবকুমারের ক্ষেত্রে হয়নি।

গল্পটা পড়তে গিয়ে কিছু কথা একদম মনে গেঁথেছে, বেশিরভাগই কোটেশন করে রাখবার মতো। 


বি.দ্র: আমার ব্যক্তিগত পর্যালোচনা, আপনার ভিন্ন হতে পারে। Constructive criticisms are always welcome 😊


বই পড়ুন- ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন।


বুক রিভিউঃ ক্যালকাটায় নবকুমার বুক রিভিউঃ ক্যালকাটায় নবকুমার Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ৪:৫৪ AM Rating: 5

বুক রিভিউঃ প্রোডাক্টিভ মুসলিম

 #রিভিউ



কিছু বই এমন হয়,যা পাঠকের চিন্তাধারা বদলে দেয়।'প্রোডাক্টিভ মুসলিম' বইটি ঠিক এমনই।


বইটিতে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন ইসলামিক জীবনব্যবস্থার সাথে প্রোডাক্টিভিটির যোগসূত্র।আমাদের নিত্যদিনের ইবাদত যেভাবে একটি প্রোডাক্টিভ জীবন গড়ে তুলতে পারে,তা যে সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে লেখক তুলে ধরেছেন,তা সত্যিই অসাধারণ!


যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নির্দেশ মেনে একটি প্রোডাক্টিভ জীবন গড়ে তুলতে চান,তাদের জন্য এই বইটি হতে পারে খুব ভালো একটি গাইডলাইন।


বইটি পড়তে গিয়ে যে বাক্যগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে,ভাবিয়ে তুলেছে,তার কিছু নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম-


      ★"আল্লাহ তায়ালা আপনাকে কেবল একজন মালিকের দাসত্ব করার আহ্বান জানিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য সকল দাসত্বের শেকল খুলে দিয়েছেন;আপনাকে একটা স্বাধীন জীবনের মুখোমুখি করেছেন।"

        

      ★"আপনি যত বেশি আল্লাহর বান্দা হওয়ার বিষয়টি নিবিড়ভাবে চিন্তা করে দেখবেন,ঠিক তত বেশি একটি সত্যিকারের প্রোডাক্টিভ জীবনযাপন করার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন।"

        

      ★"মুসলমানদের কাছে চূড়ান্ত শেষ মানেই পরকাল।"

      

      ★"ইসলাম কেবল দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা সেই স্তরে নিতে নিরুৎসাহিত করে,যেখানে গেলে মূলত আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ভালোবাসা পাওয়ার ব্যাপারটা গৌণ হয়ে যায়।"

        

      ★"আপনার নিজেকে প্রতিনিয়ত জিজ্ঞেস করতে হবে-আমার এই পদক্ষেপটি কিংবা এই কাজ বা কথাটি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে তো?"

        

      ★"আপনার জীবনকে অন্যদিকে নয়;বরং সালাতকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে দিন।"

       

      ★"আপনার নিয়ত ও কর্মের পরিচর্যা নিন,আর ফলাফল আল্লাহর হাতে ন্যস্ত করুন।"

        

       ★"খারাপ চিন্তার সাথে যুদ্ধ করার সেরা উপায়টি হলো-মনকে ভালো চিন্তায় নিবদ্ধ রাখা।"


বইটির লেখক এবং বইটি পাঠকের হাতে পৌঁছে দিতে যারা অবদান রেখেছেন,আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁদের জীবনে উত্তম বারাকাহ দান করুক।


.

বই:প্রোডাক্টিভ মুসলিম


লেখক:মোহাম্মদ ফারিস


ভাষান্তর:মিরাজ রহমান,হামিদ সিরাজী


প্রকাশনায়:গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স


প্রচ্ছদ মূল্য:২৫০ টাকা।

বুক রিভিউঃ প্রোডাক্টিভ মুসলিম বুক রিভিউঃ প্রোডাক্টিভ মুসলিম Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১০:২৬ PM Rating: 5

বই রিভিইউঃ ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স | লেখকঃ মালিহা তাবাসসুম



বইঃ ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স

অথরঃ মালিহা তাবাসসুম


কাহিনি সংক্ষেপঃ 


প্রথাগত বিচারে অসুন্দরী কুহেলি নামের মেয়েটি ক্রনিক ডিপ্রেশনের দ্বৈরথ কাটিয়ে যখনই স্বাভাবিক জীবনের রসদ খুজতে থাকে, সোশ্যাল বুলিং আর বডি শেমিং তখনই এফোড় ওফোড় করে কুহেলির অনুভূতির আকরিককে। 


এদিকে ঢাকা শহরের বুকে ঘটে যেতে থাকে এক অদ্ভুত সিরিয়াল কিলিং। বয়স, উচ্চতা, পেশা, ধর্ম, বর্ণ, জাত- কোনো কিছুর ভিত্তিতেই খুনের মোটিভ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কুলকিনারা করতে পারে না সিআইডি অফিসাররা। সিআইডির অফিসিয়াল ফরেনসিক ইনভেস্টিগেটর আবরার ফাহাদ লাশের পাশে রেখে যাওয়া নার্সারির ছড়ার বই আর ঐতিহাসিক এক ফসিলে লেখা অর্থহীন শব্দের মাধ্যমে খুজে পায় কুহেলিকে। ঘটনাক্রমে উন্মোচিত হয় রহস্যের পৌনঃপুনিক দ্বার। 


কুচকে যাওয়া চামড়ার এক অদ্ভুত দর্শন বৃদ্ধা, মিশনারি স্কুল, সারোগেট মাদার- সিআইডির অফিসিয়াল ফরেনসিক ইনভেস্টিগেটর আবরার ফাহাদের সামনে বুমেরাং বাণ হয়ে দাড়ায় একেকটা ক্লু। ডাক্তারি বিদ্যা, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রির নিখুঁত প্রয়োগ ঘটিয়ে একের পর এক খুন করে যাওয়া এক বেনামী খুনি নিজের ট্রেডমার্ক জানান দিয়ে যাচ্ছে রহস্যময় বাক্যের নিগড়ে- 'মা রক্ষা করে'। ছায়াচ্ছন্ন রহস্যের আড়ালের ধ্রুব সত্যটা কী আদৌ জানতে পারবে আবরার? 


পাঠ পর্যালোচনাঃ 


"- তা মা, আজকে কীসের ওপর অ্যাসাইনমেন্ট ছিল রে তোদের?

- কাফকার একটা নভেলার ওপর বাবা। মেটামরফসিস।

- নভেলা? সেটা আবার কী রে?

মৃদু হাসার চেষ্টা করল কুহেলি।

- ছোট সাইজের উপন্যাসকে নভেলা বলে বাবা।

- শুনি তাহলে মা। কী অ্যাসাইনমেন্ট করলি!

- গল্পের শুরুতেই গ্রেগর নামের এক ভ্রাম্যমান সেলসম্যান নিজের ক্লান্ত উদ্বাস্তু জীবনের ভাবনা নিয়ে পরের দিন সকাল দেখবে বলে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে বিছানায় এক বিশাল পোকা হিসেবে আবিষ্কার করে। 


স্থির দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন আশফাক সাহেব, যেন বুঝতে পারছেন মেয়ের মুখ থেকে উচ্চারিত পরবর্তী শব্দ কী হতে চলেছে! 


- জানো বাবা! গ্রেগরের সাথে আমার একটা মিল আছে। গল্পে একজন সুস্থ-সবল মানুষ থেকে এক রাতের ভেতরে কীভাবে একটা মানুষ নিকৃষ্টতর পোকারূপী অচ্ছুৎ হয়ে ওঠে, এটা দেখানো হয়েছে। আর ছোটবেলা থেকেই আশপাশের মানুষের দৃষ্টিতে আমি যেন নিজেকে গ্রেগর হিসেবে দেখতে পাই।" 


উপরের অংশটুকু কুহেলি ও তার বাবার মধ্যেকার কথোপকথনের একটা অংশ।


লেখিকা তার বইয়ে, কুহেলি চরিত্রটার মধ্যে দিয়ে বেশ ভালোমতোই 'ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স' কে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সের চূড়ান্ত পর্যায়ে ভোগা একজন মানুষ কিভাবে চিন্তা করে, কেমন আচরণ করে, তার আচরণ আশপাশের মানুষগুলোর উপর কেমন প্রভাব ফেলে, মানুষগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক কেমন হয় সেটাও তিনি বেশ ভালভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন। সম্পর্কগুলোর মাঝে তুলে এনেছেন কুহেলি আর অভ্রর কেমিস্ট্রিটাও। 


আমাদের আশেপাশেই আমরা অনেক সময় ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সে ভোগা অনেক মানুষকে দেখতে পাই। সেই সমস্যারই চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পেয়েছে কুহেলি চরিত্রে। 


অন্যদিকে, ফরেনসিক ইনভেস্টিগেটর আবরার ফাহাদ ও এএসপি কাম ডিটেকটিভ নিশাত নাহরিন অবন্তির ব্যক্তিত্ব, তাদের কেমিস্ট্রি এবং তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া প্রথম থেকেই আকৃষ্ট করেছে। কখনো কখনো আবরার ফাহাদকে একটু দেমাগী বা অবন্তিকে একটু লঘু টাইপ মনে হয় এবং সেটা তাদের চরিত্রেরই অংশ। এক্ষেত্রে বলে নেয়া যায়, একই চরিত্রের (বিশেষ করে আবরার ফাহাদ) আরো বই পরবর্তীতে প্রকাশ করার ইচ্ছে আছে লেখিকার, যেটা তিনি বইয়ের শুরুতেই উল্লেখ করে দিয়েছেন। 


এবার আসি মূল রহস্য নিয়ে। এ বিষয়ে আসলে কাহিনি সংক্ষেপেই যথেষ্ট বলা হয়েছে। আর বেশি বললে মজা নষ্ট হয়ে যাবে। তবে যেভাবে লেখিকা রহস্যের সুতা ধীরে ধীরে ছেড়েছেন সেটা প্রশংসনীয়। দুই ভুবনের কয়েকজন মানুষের এক ভুবনে এসে মিলিত হওয়ার প্রক্রিয়াটাই বইটাকে এনজয়েবল করে তুলেছে। 


আরেকটা বিষয়, ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সকে ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে লেখিকা অন্য বিষয়গুলকে এড়িয়ে গেছেন বিষয়টা তেমন না। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি সম্পর্কিত বিষয়গুলোর পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন। এই বিষয়টাও প্রশংসনীয়। 


সবশেষে, বাংলাদেশের প্রথম ফরেনসিক মেডিকেল থ্রিলার হিসেবে 'ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স' কতটুকু সার্থক? সার্থক! 'কতটুকু' সে বিষয়ে নানা মুনির নানা মত থাকবে। তবে সার্থক। আমি পুরো সময়টুকুই বেশ এনজয় করেছি।

বই রিভিইউঃ ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স | লেখকঃ মালিহা তাবাসসুম বই রিভিইউঃ ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স | লেখকঃ মালিহা তাবাসসুম Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১০:২৩ PM Rating: 5

বুক রিভিউঃ ব্লাড ট্যালি

  


 অ্যালেক্স ফিটজ, একজন রিপার। আরো সহজ করে বললে, একজন কালেকশন এজেন্ট বা ডেবট কালেক্টর। কাজ করে দক্ষিণ ওহিওতে অবস্থিত ভ্যাল্কিরি কালেকশনের হয়ে। জাহান্নামের বাদশাহ থেকে শুরু করে ভ্যাম্পায়ার, গবলিন, হাইতিয়ান লোয়া (হাইতিতে ডাকিনীবিদ্যা চর্চা করে এমন একটা কাল্টের ঈশ্বর), টুথ ফেইরি সহ অতিপ্রাকৃতিক জগতের নানা চরিত্র, কোম্পানির হয়ে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ঋণ সংগ্রহ করা, তাদের নানা সমস্যা সমাধান করে দেওয়া হলো তার কাজ।


চুরি সংক্রান্ত সমস্যা? কাউকে খুজে বের করতে হবে? অতিপ্রাকৃতিক সমস্যা সামলাতে হবে? কিংবা কেউ একজন টাকার বিনিময়ে কোনো একটা কোম্পানির কাছে তার আত্মা বিক্রি করলো বা বন্ধক রাখলো। কিন্তু তার সাথে ঐ কোম্পানির যেই ডিল হয়েছিল, সেটা ঠিকঠাক মতো পালন করে নাই? তখনই ডাক পরে অ্যালেক্সের বা অন্য কোনো কোম্পানির অন্য কোনো রিপার এজেন্টদের। 


তবে অ্যালেক্স সেরাদের সেরা। বাচ্চাকালে ভ্যাল্কিরি কালেকশনের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া প্রায় নিঃসঙ্গ ২৮ বছর বয়সী এই এজেন্টের গায়ে বইছে ট্রলের রক্ত, যা অন্যান্য মানুষের চাইতে তাকে আরো বেশি শক্তিশালী করে তুলেছে, দিয়েছে দ্রুত প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা। তার সাথে আরো আছে প্রায় সাতশো বছর বয়সী এক জ্বিন, নাম ম্যাগি। কোনো এক যাদুকরের অভিশাপে আঙটিতে আটকে থাকা এই জ্বিনই  অ্যালেক্সকে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে নানা ধরণের উপদেশ দিয়ে, সতর্ক করে সাহায্য করে। বইয়ের মূল চরিত্র এই দুইজনই। 


একদিন ডেথ নামে পরিচিত ফেরিম্যান (গ্রিক মিথলজি - বিশেষ দ্রষ্টব্য) আসে তার কাছে একটা কাজ নিয়ে। খুঁজে বের করতে বলে তার কালেকশন থেকে চুরি যাওয়া অনেকগুলো আত্মা। যদিও পুরো ব্যাপারটা লিগ্যালি আদারওপসের (পুলিশের মতো একটা সংস্থা)র সামলানোর কথা। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য লর্ডস অফ হেলের নির্দেশ এই জিনিস অ্যালেক্সে একাই করতে হবে এবং কারো কানে যেন এই ব্যাপারটা না পৌঁছায়।  


কোনো ধরণের লিড ছাড়াই শুরু হয় অ্যালেক্সের আত্মা খোঁজা। এর মধ্যেই এক ন্যাকরোম্যান্সার তাকে আক্রমণ করে তার জ্বিন কেড়ে নিতে চায়। প্রতিহিংসাপরায়ন আনডেড (মৃত হওয়া সত্ত্বেও নড়াচড়া করতে পারে) তাকে মারতে চায়। আত্মা চুরির সাথে ইম্পসদের (এলফ প্রজাতি) সম্পর্ক পাওয়ার পর থেকেই কেউ একজন বেশ নৃশংসভাবে তাদের হত্যা করা শুরু করে। এভাবেই কাহিনী আগায়।


লেখক ব্রায়ান ম্যাকক্যালেন ‘ভ্যাল্কিরি কালেকশন’ সিরিজের প্রথম বই ‘আনক্যানি কোলাট্রেলার’য়ের মাধ্যমে এমন একটা আরবান ফ্যান্টাসি ইউনিভার্সের সূচনা করছে, যেখানে নানা ফ্যান্টাসি, মিথের নানা রকম চরিত্ররে এক সাথে করে আগাইছে। এই অতিপ্রাকৃতিক চরিত্ররা আবার হিউম্যান রেসে যোগ দিছে। দুনিয়াতে নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যবসা বানিজ্য থেকে শুরু করে রাজনীতি, গ্যাং কালচারেও যোগ দিছে।


পুরো গল্পটা অ্যালেক্স ফিটজের ফার্স্ট-পার্সন দৃষ্টিভঙ্গিতে লেখা। আহামরি কোনো টুইস্ট, থ্রিল না থাকলেও বেশ চলমান একটা গল্প। অতিরিক্ত ক্লাইমেক্স সমৃদ্ধ না হইলেও ফিনিশিংটা সুন্দর। ছোটখাটো বইটা সব মিলিয়ে খারাপ না। 


এই সিরিজের দ্বিতীয় বই ‘ব্লাড ট্যালি’। লেখক ব্রায়ান ম্যাকক্যালেন তার ফ্যান্টাসি সিরিজ ‘পাওডার মেজ’য়ের জন্য বেশ জনপ্রিয়।

বুক রিভিউঃ ব্লাড ট্যালি বুক রিভিউঃ ব্লাড ট্যালি Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১০:০০ PM Rating: 5

বুক রিভিউঃ দ্য সাইলেন্ট পেশেন্ট

বইয়ের নামঃ দ্য সাইলেন্ট পেশেন্ট 

লেখকঃ অ্যালেক্স মাইকেলিডিস

অনুবাদঃ সালমান হক

প্রকাশনীঃ বাতিঘর

মুদ্রিত মূল্যঃ তিনশত আশি টাকা


            "দ্য সাইলেন্ট পেশেন্ট" অ্যালেক্স মাইকেলিডিসের প্রথম উপন্যাস।এটি একটি সাইকোলজিক্যাল থৃলার।এক উপন্যাসেই বাজিমাত করে দিয়েছেন লেখক।২০১৯ সালে গুডরিডস ব্যবহারকারীদের মতে বেস্ট থৃলারের খেতাব জিতে নেয় বইটি।


           নামকরা চিত্রশিল্পী অ্যালিসিয়া বেরেনসন এক সন্ধ্যায় তার স্বামী গ্যাব্রিয়েল বেরেনসনকে পর পর পাঁচটি গুলি করে হত্যা করে।কেন- সেটা জানার কোনো উপায় নেই,কারণ এই খুনের পর থেকে মুখ খোলে না অ্যালিসিয়া।তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে কিছু স্বীকারও করে না,আবার অস্বীকারও করে না সে।তার এই নিরবতা তাই জন্ম দেয় নানারকম গুজবের।মুখে কিছু না বললেও পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে অবশ্য একটা বার্তা দেয়।ছবিটা একটা আত্মপ্রতিকৃতি থাকে,যার একদম নিচে থাকে একটা শব্দ: 'অ্যালসেস্টিস'।তাকে মিডিয়া আর লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয় এক গোপন ফরেনসিক ইউনিটে।

         এদিকে ক্রিমিনাল সাইকোথেরাপিস্ট থিও ফেবার দীর্ঘদিন ধরে অ্যালিসিয়াকে নিয়ে কাজ করার জন্যে উন্মুখ হয়ে আছে এবং অবশেষে সুযোগটা পেয়েও যায় সে।থিও অ্যালিসিয়াকে বোঝার চেষ্টা করে,তার মনে হতে থাকে অ্যালিসিয়া নির্দোষ।

অবশেষে থিও কী পারে অ্যালিসিয়াকে কথা বলাতে??

সেদিন সন্ধ্যায় কী ঘটেছিল সে রহস্যের কী সমাধান পাওয়া যায়? তা জানতে হলে অবশ্যই বইটা পড়তে হবে।


        বইটা আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে!!শেষটা যে এমন হবে তা আমার কল্পনাতেও ছিল না।বইটা পড়ে রহস্যের যে উত্তর পেয়েছি, তাতে আমি শক-ই পেয়েছি।আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না,আসলেই!?এমনটা ঘটেছিল ঐ সন্ধ্যায়!?বইটা পড়ার পর কালকে সারারাত উত্তেজনায় ঘুম-ই আসে নি।যাক বইটা কিনে আমার টাকাগুলা লস যায় নি।আমার মতে এই থৃলার টা কারো মিস করা উচিৎ না।

      ব্যক্তিগত রেটিংঃ  ৯.৫/১০😌

বুক রিভিউঃ দ্য সাইলেন্ট পেশেন্ট বুক রিভিউঃ  দ্য সাইলেন্ট পেশেন্ট Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১১:০৭ AM Rating: 5

বুক রিভিউ: শেষ অধ্যায় নেই



বুক রিভিউ

বই: শেষ অধ্যায় নেই

লেখক: সাদাত হোসাইন

প্রকাশক: অন্যধারা

মুদ্রিত মূল্য: ৪০০/=

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৬

প্রচ্ছদ: সাদাত হোসাইন


শফিক শাহরিয়ার একজন সফল লেখক। কোনো বই প্রকাশের আগেই প্রকাশকের ভেতর টানাহেঁচড়া শুরু হয়ে যায়, প্রি-অর্ডার নিয়ে পাঠকের ভেতর প্রতিযোগিতা চলে। এবার এই উন্মাদনা সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। বেশ আগে থেকে প্রচারণা চলেছে, সেই সাথে আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে সিনেমা বানানোর ঘোষণা। সবমিলিয়ে বইটা হতে যাচ্ছে তার জীবনের অন্যতম মাইলফলক।


চা বাগানের নির্জনে এসেছেন বইটা শেষ করার জন্য। তবে এখানকার লোকজন কেন যেন তাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না। রাতে হুটহাট ইলেকট্রিসিটি চলে যাচ্ছে, উল্টোপাল্টা সময়ে রহস্যময়ভাবে গীর্জার ঘন্টা বাজছে। সবকিছুই কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে।


এমনিতেই ব্যক্তিগত সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছেন। স্ত্রী নাজনীনের সাথে দ্রুত ব্যক্তিগত ঝামেলা মিটিয়ে ফেলতে হবে। সেই সাথে তৃণার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে সবার আগে বইটা শেষ করা জরুরি। তাই সেদিকেই মনোনিবেশ করলেন। তবে কৌতুহলী মনের অনুসন্ধানও চলতে থাকল।


অতঃপর লেখা চলল বেশ তড়িৎগতিতে। শেষ অধ্যায় লেখার আগে আমন্ত্রণ জানালেন প্রকাশক, চলচ্চিত্র পরিচালক আর প্রকাশকদের। তবে দ্বিতীয় দিনটা কেবল স্ত্রী আর মেয়ের জন্য। কিন্তু এর ভেতরই ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। মৃত্যু হয় লেখক শফিক শাহরিয়ারের। কিন্তু এটা কি মৃত্যু না খুন? তদন্তে নামলেন এসআই রেজা। সন্দেহভাজনের তালিকাটাও বিশাল। চা বাগানের রহস্যময় ঘটনা ছাড়াও ব্যক্তিজীবনের বিশাল ঝামেলায় জর্জরিত শফিকের ভাগ্যে আসলে কি ঘটেছিল? শেষ অধ্যায় ব্যতীত বইটা কি আদৌ প্রকাশিত হবে? 


বেশ আগে লেখকের কিছু বই পড়া হয়েছিল। সবগুলো ছিল সামাজিক ঘরানার। এরপর রেজা সিরিজের 'ছদ্মবেশ' বইটি পড়া হয়েছে। মোটামুটি ভালোই লেগেছে। এবার 'বিবিধ'-এর গিভ অ্যাওয়েতে সিরিজের দ্বিতীয় বই 'শেষ অধ্যায় নেই' পেলাম। যেহেতু উপহার পাওয়া তাই অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করেছে বইটা হাতে পেয়ে।


তবে তুলনামূলক আলোচনায় গেলে বলতে হয় প্রথম বইটা বেটার ছিল। এবারের বইটা খুব একটা টানেনি। প্রথমত শুরুর দিকে বর্ণনা খুব ধীর গতিতে এগিয়েছে। যদিও প্রেক্ষাপট বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল। নির্জন চা বাগান, গীর্জার রহস্যময় ঘন্টা, ম্যানেজারের অদ্ভুত আচরণ, লেখকের ব্যক্তিগত জটিলতা সবমিলিয়ে ব্যাপারটা আরো উপভোগ্য হত যদি না এতটা প্রলম্বিত হত।


অনুসন্ধানী চরিত্র হিসেবে রেজার অতি ভাবালুতাও কিছু জায়গায় বেমানান লেগেছে। তবে তার কার্যপদ্ধতি লেখক বেশ গুছিয়ে বর্ণনা করেছেন। এর বাইরে লেখক শফিক শাহরিয়ার, নাজনীন, তৃণা, ঋভু রায়, মহিউদ্দিন আহমেদ উক্ত চরিত্রগুলোও বেশ সপ্রতিভ ছিল। ফাদার ফ্রেডরিক চরিত্র হিসেবে বেশ ইন্টারেস্টিং, আবদুল বাতেন রহস্যময়। বইয়ের শেষ অধ্যায় না থাকার সাথে রহস্যের সংযোগটা ভালো লেগেছে। তবে শেষটা আরো আকর্ষণীয় হতে পারত।


পুরো ব্যাপারটা একটা সামাজিক গল্প হিসেবে বেশি মানানসই হত। থ্রিলার হিসেবে স্লো মনে হয়েছে। রহস্য সমাধানের চেয়ে ব্যক্তিগত টানাপোড়ন নিয়েই আলোচনা হয়েছে বেশি। তাছাড়া রহস্য সমাধানে রেজাকে আরেকটু চৌকস, বাস্তববাদী হিসেবে দেখানো হলে বোধহয় মন্দ হত না।


যেহেতু থ্রিলার পড়তে ভালোবাসি, তাই পড়ার সময় একটা অন্যরকম উত্তেজনা কাজ করে। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই অনুভূতিটা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আশা করি সামনে রেজা আরো সপ্রতিভ, চৌকস আর বুদ্ধিদীপ্ত চরিত্র হিসেবে একটা টানটান রহস্য নিয়ে হাজির হবে।


অন্যধারার পরিবেশনা চমৎকার। তবে আমার কপিটাতে কিছু পেজ মিসিং ছিল। কভারের পেছনে করোনাকালীন সতর্কবার্তা দেখে ভালো লেগেছে।


Mahfuza Islam Shoshi আপুকে ধন্যবাদ মিসিং পেজগুলোর ছবি তুলে দেবার জন্য।♥


#হ্যাপি_রিডিং।☺

বুক রিভিউ: শেষ অধ্যায় নেই বুক রিভিউ: শেষ অধ্যায় নেই Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১১:০৩ AM Rating: 5

খেলারাম খেলে যা Pdf Download

বইঃখেলারাম খেলে যা

লেখকঃসৈয়দ শামসুল হক 

প্রকাশনীঃইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ

মুদ্রিত মূল্যঃ ৪০০

পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২১২

পার্সোনাল রেটিংঃ ৭/১০ 

Download Link ক্লিক করুন

রিভিইউ

চল্লিশোর্ধ্ব অবিবাহিত এক পুরুষ, যে সাংসারিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে নিজের ইচ্ছের গলায় শিকল তুলে দেওয়া মনে করে। একে সন্তুষ্টি নেই যার প্রচলিত কথায় বহুগামী, এবং ষোড়শী কিংবা অষ্টাদশী বালিকারাই যার প্রথম পছন্দ। ভালোবাসার অভিনয় করে কিভাবে মেয়েদের মন জয় করতে হয় তা তার নখদর্পনে। তেমনই এক বালিকাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে তিন দিনের ট্যুরে নিয়ে যায় রংপুর, এবং প্রতিবারের মত  এবারো তার অভীষ্ট সে লাভ করে। কিন্তু মেয়েটা তাকে ভালোবেসে ফেলে,  ফেরার পথে সে অধিকার চাই, এবং এক পর্যায়ে অভিমান করে কাঁদতে কাঁদতে গাড়ি থেকে নেমে পড়ে নির্জন মাঠে। 

মধ্যবয়সী সেই পুরুষ গল্পে যার নাম 'বাবর' তাদের বাড়ি ছিলো বর্ধমান জেলায়, ৪৭ এর দেশভাগে সে হারায় তার পরিবার, আদরের একমাত্র ছোটবোনকে দাঙ্গাবাজদের কাছে  ধর্ষিত হতে দেখেও সে প্রতিবাদ করতে পারেনি, তাকে ফেলে নিজের জীবন নিয়ে পালিয়ে আসে, আর তার কানে বাজতে থাকে বোন 'হাসনু'র সেই শেষ ডাক "দা--দা"। সেই একই ঘটনার প্রতিফলন কি আবার ঘটবে তার অষ্টাদশী ভ্রমণসঙ্গী " জাহেদা"র সাথে এই নির্জন মাঠে? এবার কি করবে বাবর? বাঁচাতে পারবে জাহেদাকে? নাকি তার প্রাপ্য সে পেয়ে গেছে, জাহেদা এখন শুধুই বাড়তি ঝামেলা ভেবে, একা ফেলে যাবে তাকে? 

সময় পেলে অবশ্যই একবার পড়ে দেখুন "খেলারাম খেলে যা"। হ্যাঁ, উপন্যাসটিতে প্রচুর অশ্লীল মন্তব্য আছে, অনেকে সফট পর্ণ ও বলবে হয়তো। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে যে গভীর মর্মার্থ তার জন্য উপন্যাসটিকে খারাপ বলা চলে না। বরং সব মেয়েদের পড়া উচিত, যে সমস্ত বিকৃত মনস্ক পুরুষ আছে তাদের স্বরূপ বা নমুনা যেন জানা থাকে সেজন্য।     


  

ভালোলাগা কিছু লাইন-


" আমরা বাস করছি অতীত এবং ভবিষ্যতের মাঝখানে।  যেখানে আগেও ছিলাম, এখনো আছি আর ভবিষ্যতেও থাকবো।"  


"মৃত্যুর পরেও আমি বেঁচে থাকতে চাই না। আমার এমন কিছু সম্পদ নেই,অর্জন নেই,উপলব্ধি নেই যা যক্ষের মত আগলে রাখার স্পৃহা বোধ করি ভবিষ্যৎ বংশধরের জন্য। এ জীবন আমি চাইনি, অতএব কারো জীবনের কারণ ও আমি হতে চাই না।   "

"বিয়ে করব ভালোবাসে? ভালোবাসা বলে কিছু নেই, ওটা একটা পন্থা, পন্থা কখনো লক্ষ্য হতে পারে না, নিবৃত্তি নেই তাতে। ভালোবাসা একটা অভিনয়ের নাম। "

"স্বপ্ন হচ্ছে ভবিষ্যৎ। কিন্তু ভবিষ্যৎ আসলে বর্তমানেরই সম্প্রসারণ   । "

"যা ভালো লাগে তা ধরে রাখা বোকামী, মানুষ ধরে রাখতে চায় বলেই দুঃখ পায়। "

খেলারাম খেলে যা Pdf Download  খেলারাম খেলে যা Pdf Download Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১০:৫৮ AM Rating: 5
Blogger দ্বারা পরিচালিত.