Results for Blog

আধুনিক গরু-রচনা সমগ্ৰ – মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

২:৩২ AM

আধুনিক গরু-রচনা সমগ্ৰ – মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

একদিন আমাদের আকাশ আমাদের মাথার ওপর টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়তে লাগলো। কিন্তু আমাদের রাজা একটিবারও ভাবলেন না- আকাশের একটি ভাঙা টুকরো, তার মাথায়ও পড়তে পারে।

প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২২


উৎসর্গ

আল্লাহকে। কারণ তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করা যায় না।



প্রকাশকের কথা

মগজে গুঁতো খাওয়ার ভয়ে অনেকে মহিউদ্দিন মোহাম্মদের লেখা পড়তে চান না। তবে সাহিত্য ও দর্শনের যারা মনোযোগী পাঠক, তাদের কাছে মহিউদ্দিন মোহাম্মদ একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। বিশ্বসাহিত্য ও দর্শনে তাঁর পাণ্ডিত্য ঈর্ষণীয়। এ বইটি তাঁর প্রকাশিতব্য অনেক কাজের একটি। এখানে তাঁর সংজ্ঞাবলীর পদাবলী, মানুষ এবং অন্ধকারের প্রশংসা, ধর্ষণের সাথে পোশাকের সম্পর্ক, আমাদের ইশকুল আমাদের গোরস্থান, শিক্ষার রাজনীতিক টুপি, আপনি কী করেন, সম্মান, প্রশংসার নিন্দা, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরা, ছাগল ও তার পিএইচডি ডিগ্রি, জিপিএ ফাইভ ও জুতোর ফ্যাক্টোরি, প্রভৃতি জননন্দিত ও গুরুত্বপূর্ণ লেখা স্থান পেয়েছে। ‘মানুষ এবং অন্ধকারের প্রশংসা’ রচনাটি আলাদা বই আকারে বের হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি আমাদেরকে পুরো রচনাটির পাণ্ডুলিপি দেন নি। এ জন্য যেটুকু দিয়েছেন, সেটুকুই এ বইয়ে সন্নিবেশিত হয়েছে। আমাদের আশা, ভবিষ্যতে আমরা পুরো পাণ্ডুলিপিটি পাবো।

তাঁর লেখা ‘বিশ্বসাহিত্য ভাষণ’-ও আমরা প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছি। ভাষণটিতে যে-প্রজ্ঞা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা নিয়ে তলস্তয়, দস্তায়েভস্কি, পুশকিন, গোর্কি, গোগল, সোলজিনিতসিন, জেমস জয়েস, বার্ট্রান্ড রাসেল, নিটশা, হেমিংওয়ে, রুশো, সাঁত্রে, ভিক্টর য়্যুগো, ফকনার, দেকার্তে, নবোকভ, সিঙ্গার, আগনন, পাস্তারনাক ও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ লেখকের কাজ তিনি আলোচনা করেছেন, তা অতুলনীয়। বাংলা ভাষায় বিশ্বসাহিত্যের এ রকম গভীর আলোচনা এর আগে আমরা দেখি নি।

তাঁর সংজ্ঞাবলীর পদাবলী, সাহিত্যের একটি নতুন জঁরা (Genre) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এগুলো কি কবিতা নাকি গদ্য, ফিকশন নাকি নন-ফিকশন, শ্লেষ নাকি বাস্তবতা, তা ঠিক ঠাহর করা যায় না। সম্ভবত দুইয়ের মিশ্রণে তৈরি একটি নতুন ধারা। অল্প কথায় এতো গভীর ভাবের প্রকাশ সাহিত্যের আর কোনো ধারায় লক্ষ করা যায় না। তাঁর স্যাটায়ারবোধ অসাধারণ। প্রতিটি লেখায় কোনো-না-কোনো বাক্যে এর প্রমাণ রয়েছে।

বইটির নাম ‘আধুনিক গরু-রচনা সমগ্র’ হলেও এটি আদৌ কোনো গরু রচনার বই নয়। বইটির ‘সংজ্ঞাবলীর পদাবলী’ অংশে গরুর যে-সংজ্ঞা লেখক দিয়েছেন, তা থেকে এ নামকরণের কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বইটির প্রতিটি লেখায় লেখকের দার্শনিক সত্তার পরিচয় লুকিয়ে আছে। অনেক সাধারণ বিষয়কে তিনি যেভাবে লিগাল ফিলোসোফি, পলিটিক্যাল ফিলোসোফি ও মোরাল ফিলোসোফির সমন্বয়ে ব্যাখ্যা করেছেন, তা বিস্ময়কর।

এপিস্টেমোলোজির ওপর লেখকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক রচনা ও কয়েকটি ছোটগল্প এ বইয়ে সন্নিবেশিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বইটি প্রকাশের শেষ মুহূর্তে এসে মত পাল্টানোয় তা সম্ভব হলো না। তবে ভবিষ্যতে ওই লেখাগুলোও আমরা পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবো বলে আশা রাখি।

শোষিত মানুষের প্রতি লেখকের মমত্ববোধ অসাধারণ। একটি কবিতায় এ বিষয়টি মর্মস্পর্শীভাবে ধরা দিয়েছে। কবিতাটি এখানে উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছি না। কবিতাটির নাম- ‘মাংস নয়, হাড়ের মুক্তি চাই’।

“মাংস নয়, আমাদের হাড়গুলিকে মুক্তি দিন
আপনাদের গায়ে আমাদের মাংসের শার্ট
আপনাদের গাড়িতে আমাদের মাংসের পতাকা
আপনাদের ব্যাংকে আমাদের মাংসের বান্ডিল
আপনাদের স্যুটকেসে আমাদের মাংসের ঋণপত্র
আমরা দীর্ঘকাল
আমাদের মাংসের পেছনে ছুটছি

আপনাদের কোট থেকে
ঝরছে আমাদের মাংসের সেলাই
আপনাদের ঠোঁট থেকে
খসছে আমাদের মাংসের লিপস্টিক
আপনাদের চুল থেকে
উড়ছে আমাদের মাংসের গন্ধ
আমরা জন্মের পর থেকে
আমাদের মাংস আপনাদের শরীরে দেখে আসছি
আপনাদের স্থাপনায়, আমাদের মাংসের কংক্রিট
আপনাদের মসজিদে, আমাদের মাংসের মিনার
আপনাদের সংসদে, আমাদের মাংসের উল্লাস
আপনাদের টয়লেটে, আমাদের মাংসের শ্যাম্পু
আপনাদের সূর্য
ধীরে ধীরে ডুবছে আমাদের মাংসের দিগন্তে

আমাদের অনেক মাংস, সমান, আপনাদের এক ব্যাগ ক্রিশ্চিয়ান ডাইয়োর
আমাদের অনেক মাংস, সমান, আপনাদের থ্রি নাইটস হলিডে ইন প্যারিস
আমাদের অনেক মাংস, সমান, আপনাদের কানে সারাদিন স্যার স্যার স্যার

আপনারা যখন
টয়োটায় এক লিটার তেল পোড়ান
আমরা তখন কারখানায় এক কেজি মাংস পোড়াই

কিন্তু আমাদের শরীরে আর পোড়াবার মতো মাংস অবশিষ্ট নেই

আপনারা যখন এক গ্লাস ফ্রেশলি স্কুইজড
কমলার জুস হাতে নেন
আমরা তখন কারখানায় এক মগ মাংসের জল পান করি

কিন্তু আমাদের শরীরে আর পান করার মতো মাংস অবশিষ্ট নেই

আপনাদের ঈদ, আমাদের ঈদ থেকে আলাদা
আপনাদের লুঙ্গি, আমাদের লুঙ্গি থেকে ভিন্ন
আপনাদের সিগারেট, আমাদের সিগারেট থেকে আলাদা
আপনাদের ঈশ্বর, আমাদের ঈশ্বর থেকে ভিন্ন
আপনাদের খাটে, আমাদের মাংসের পেরেক
আপনাদের বালিশে, আমাদের মাংসের তুলো
আমরা টেলিভিশনে, দেখি আপনারা ঘাসের মতো

আমাদের মাংস চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছেন
আর উৎকৃষ্ট ব্রাশ দিয়ে
দূর করছেন
দাঁত থেকে আমাদের মাংসের গন্ধ
আমাদের স্ত্রীদের বক্ষ ও পেট
সমতল
আমাদের কন্যাদের বিয়ে
আমাদের ঘুমের মতোই নিঃশব্দ
আর আমাদের চোখের জল
আপনাদের চোখের জলের সাথে
কখনোই মেলে না

আপনাদের জুতোয় আমাদের মাংসের চুমো
আপনাদের স্তনে আমাদের মাংসের ব্রা
আপনাদের রিংটোনে
আমাদের মাংসের আর্তনাদ
আপনারা বাজার থেকে যে-গরুর মাংস কিনে আনেন
তা আমাদেরই মাংসের গবাদি সংস্করণ
আমাদের ঘামের রং
আপনাদের ঘামের রং থেকে আলাদা
আমাদের হাসির শব্দ
আপনাদের হাসির শব্দ থেকে ভিন্ন
মরা ভিডিওতে দেখেছি
আপনাদের ম্যাট্রেসে আমাদের মাংসের আহাজারি

আপনাদের বুটের তলায়
আমাদের মাংসরা ছটফট করছে
দের মুক্তি দিন
আপনাদের বিমানের আসনে
আমাদের মাংসরা ছটফট করছে
তাদের মুক্তি দিন

আপনাদের অধিবেশনে
মাদের মাংসরা ছটফট করছে
তাদের মুক্তি দিন
আপনাদের সংবাদপত্র, মেখে আছে আমাদের মাংসের কালি
আপনারা যখন প্রশংসা করেন
তখন মূলত
আমাদের মাংসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন
আপনাদের নাক বেয়ে বেয়ে
পড়ছে আমাদের মাংসের সর্দি
আপনাদের হাসিতে
আমাদের মাংসের বিলাপ
আপনাদের প্রজ্ঞাপনগুলি, ছাপা আমাদের মাংসের অক্ষরে
তা প্রত্যাহার করুন
আপনাদের বিজ্ঞাপনগুলি, তৈরি আমাদের মাংসের ক্যামেরায়
তা প্রত্যাহার করুন
আপনাদের পুষ্পমাল্য, পড়ে আছে আমাদের মাংসের বেদিতে
তা প্রত্যাহার করুন
আমাদের মাংসের অন্ধকারে
ঢেকে গেছে আপনাদের সমস্ত আলো

আপনারা উপরে উঠছেন, আমাদের মাংসের মই বেয়ে
এখন হাঁটলে
আমাদের পায়ের নিচ থেকে কবরের ঘ্রাণ ওঠে
মনে হয় আমরা হেঁটে যাচ্ছি
অনেকগুলো হাড়ের কাঠামো

আমাদের শরীর, আর এক মুঠো হাড় এখন আর
কোনো আলাদা অর্থ প্রকাশ করে না
তাই মাংসের বদলে
এখন আমরা, আমাদের হাড়গুলোরই মুক্তি চাই হাড়গুলো নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবো”

লেখকের কাব্যগ্রন্থও হয়তো কোনো একদিন আমরা মুদ্রিত আকারে নিয়ে আসতে পারবো।

পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন ‘আধুনিক গরু-রচনা সমগ্র’ বইটি সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পড়েন। অন্যথায় এর বিষয়বস্তু হৃদয়ঙ্গম করা সহজ হবে না। আমাদের বিশ্বাস, মানুষের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা চিন্তাশীল সত্তাকে এ বই জাগিয়ে তুলতে পারবে। ধাক্কা দিতে পারবে মানুষের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গিকে। বাংলা ভাষায় এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশের অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিত।

বইটির কিছু জায়গায় লেখক তাঁর নিজস্ব বানান ও বাক্যরীতি বহাল রেখেছেন। বাক্যের পোয়েটিক মোশন, প্রাঞ্জলতা ও বোধগম্যতার ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। পরিচিত বানানগুলোকে পরিচিত আকারেই রেখেছেন। আগন্তুক বানান ও শব্দ যথাসম্ভব পরিহার করেছেন। বাক্যের বোধগম্যতা নিশ্চিত করতে যতিচিহ্নের ব্যবহারও সেভাবেই করেছেন। তবে প্রুফ দেখার সময় অনেক অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি-বিচ্যুতি আমাদের পক্ষ থেকে ঘটে থাকতে পারে। এ রকম কিছু কারো নজরে এলে, সবিনয় নিবেদন, বিষয়টি আমাদের নজরে আনবেন, যেন পরবর্তী মুদ্রণে তা সংশোধন করতে পারি।

শাহীদ হাসান তরফদার
প্রকাশক
ফেব্রুয়ারি, ২০২২

আধুনিক গরু-রচনা সমগ্ৰ – মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আধুনিক গরু-রচনা সমগ্ৰ – মহিউদ্দিন মোহাম্মদ Reviewed by Syed Araf on ২:৩২ AM Rating: 5

ইসলামের স্বর্ণযুগে ১০টি মুসলিম আবিষ্কার

 ইসলামের স্বর্ণযুগে ১০টি মুসলিম আবিষ্কার


জীবনের সঙ্গে বিজ্ঞানের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ । এককথায় বিজ্ঞান ছাড়া আমাদের জীবন অচল। একথা আজকের দিনে যেমন সত্যি, অতীতকালেও ছিল তেমনি সমান সত্যি। তবে আজকের মতাে অতীতে বিজ্ঞান সাধনা এত সহজ ছিল না। অন্ধকারময় সেই যুগে মুসলমানরাই ছিল বিজ্ঞানের জনক। ইসলাম শুধু মানুষের জীবনে আধ্যাত্মিক বিপ্লব ঘটিয়েছিল তা নয়, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারেও অনবদ্য অবদান রেখেছে। এ সত্য আজকের প্রজন্মের অনেকেই জানে না। 

(১০) সার্জারীঃ মধ্যযুগের মুসলিম বিশে^র সবচেয়ে মহৎ শল্যবিদ এবং আধুনিক শল্যচিকিৎসার জনক বলে গণ্য করা হয় আল জাহরাউয়ি কে । কিতাবুল তাসরিফ’’ চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে লেখা তার বইটি ৩০ খন্ডের একটি বিশ^কোষ যেখানে শল্য চিকিৎসার প্রক্রিয়া ও যন্ত্র নিয়ে তার অবদান প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে আধুনিক কালেও বেশ প্রভাব ফেলেছে ।


 (০৯) কফি: আজকে যে কফি ছাড়া সভ্য মানুষের চলেই না তা কিন্তু নবম শতকের আগে জানা যায়নি । কফির ব্যবহার ধরা হয় ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দের পর । ইথিওপিয়া এবং ইয়েমেন এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আধুনিক কফির ইতিহাস ।


 (০৮) বিমানের ঃ স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির নাম প্রতিষ্ঠিত হলেও দ্যা ভিঞ্চিরও বহু আগে ওড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন যিনি তিনি হলেন আব্বাস ইবনে ফিরনাস । ৯ম শতাব্দীতে খুব অল্প সময়ের জন্য নিজেকে ওড়াতে সক্ষম হন । অবশ্য পরবর্তীতে সেই মেশিন থেকে পরেই তিনি মারা যান । 


(০৭) বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ৮৫৯ খ্রীষ্টাব্দে মরক্কোর ফেজ নগরীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো কারাওইন বিশ^বিদ্যালয় । ফাতিমা আল ফিহরী নামের এক মহিয়সী নারীর হাত ধরে শুরু হয় এই বিশ^বিদ্যালয় । এই ফেজ নগরীকে তখন বলা হতো পাশ্চাত্যের বাগদাদ । মধ্যযুগে কারাওইন মুসলমান ও ইউরোপের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ১২শ বছর পরেও সেই বিশ^বিদ্যালয় এখনো মরক্কোতে স্বমহিমায় কার্যক্রম চালাচ্ছে ।


 (০৬) বীজগণিত: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মূসা আল খোয়ারিজমি - বীজগণিতকে তিনিই প্রথম বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলেন । তার রচিত পুস্তক কিতাব আল জাবর ওয়াল মুকাবেলা হতে বীজগণিতের ইংরেজি নাম আল জেবরা উৎপত্তি লাভ করে । ষোড়শ শতক পযর্ন্ত তার অনেক বই ইউরোপীয় বিশ^বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক পাঠ্য সূচিতে অন্তর্ভূক্ত ছিলো । 


(০৫) আলোকবিদ্যা: পশ্চিমারা তাকে আল হাজেন বলে ডাকে । তাকে বলা হয় আলোক বিজ্ঞানের জনক । কায়রোতে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি তার শ্রেষ্ঠ গবেষণা পত্র ‘বুক অব অপটিকস’ রচনা করেন । তাঁর সম্মানে চাদেঁর একটি জ¦ালামুখের নামকরণ করা হয় ‘আল হ্যাজেন’ বা আল হাইথাম । ১০০০ খ্রীষ্টাব্দের দিকেই তিনি প্রমাণ করেন আলোর প্রতিফলনের ফলে সৃষ্ট বিম্ব মানুষ দেখে। মানুষের চোখের নিজস্ব কোন আলো নেই। মানুষ প্রতিফিলিত আলোর সহায়তায় দেখতে পায় । 


০৪) সঙ্গীতঃ ইউরোপের সঙ্গীত জগতের উৎকর্ষ সাধনে মুসলিম মিউজিয়ামশিয়ানরা বিরাট ভূমিকা রেখেছিলো । ধারণা করা হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে যে সব বাদ্যযন্ত্র এসেছে সেগুলোর মধ্যে এমন কিছ বাদ্য যন্ত্র যেগুলো থেকেই পরে ভায়োলিনের উৎপত্তি । আধুনিক মিউজিকের অনেক স্কেলও আরবি বর্ণ থেকে এসেছে ।


 ০৩) ইঞ্জিন ঃ ১২শ শতকের দিকে আল জাবারির আবিষ্কৃত এ প্রযুক্তি বিশে^র প্রায় সকল যান্ত্রিক যান বাহনে ব্যবহৃত হচ্ছে । শুধু যান চলাচলেই নয় বরং ভারী জিনিসপত্র উত্তোলনের কাজেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে ।


 ০২) সালফিউরিক এসিডঃ আল-রাযী-৮৪১ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহন করা এই বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন একজন দক্ষ পার্সিয়ান চিকিৎসক এবং দার্শনিক । তিনি চিকিৎসা বিদ্যা, আল-কেমি,পদার্থবিদ্যা এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর১৮৪টির বেশি বই লিখেছেন । তিনি সালফিউরিক এসিড আবিষ্কার করেন । এছাড়া ইথানল উৎপাদন, বিশোধন ও চিকিৎসায় এর ব্যবহার প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন । 


০১) হাসপাতালঃ মধ্য যুগের (৫০০-১৫০০ খ্রীষ্টাব্দ ) মুসলিম সমাজের অন্যতম অর্জন বা অবদান হচ্ছে হাসপাতাল ব্যবস্থার সূচনা করা । এ সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ কর্তৃক সর্বপ্রথম হাসপাতাল । অপর দিকে ৮৭২ সালে মিশরে প্রথম হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয় । নবম শতকেও তিউনিশিয়াতে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয় । মধ্যযুগে খ্রিষ্ঠান সম্প্রদায় ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করতেন তবে সেটা হাসপাতালের নয় । সেগুলো মূলত ধর্মগুরু দিয়ে পরিচালিত হতো । এবং সেটা কোন দিক দিয়ে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মুসলিম হাসপাতালগুলোর মতো সেকূল্যার সেবা দিতে সক্ষম ছিলো না

ইসলামের স্বর্ণযুগে ১০টি মুসলিম আবিষ্কার ইসলামের স্বর্ণযুগে ১০টি মুসলিম আবিষ্কার Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১:০৫ AM Rating: 5

সবচেয়ে ভালো ১০ টি পিডিএফ রিডার

 


অ্যান্ড্রয়েডের জন্য সেরা পিডিএফ রিডার

পিডিএফ একটি শক্তিশালী ফাইল টাইপ। আসুন এটিকে সহজ করতে সাহায্য করার জন্য Android এর জন্য সেরা পিডিএফ রিডার অ্যাপগুলি একবার দেখে নেওয়া যাক৷



অ্যান্ড্রয়েডের জন্য গুগল পিডিএফ ভিউয়ার সেরা পিডিএফ রিডার অ্যাপ।
পিডিএফ রিডার অ্যাপস সবসময়ই ঘাড়ে ব্যথা করে। সাধারণভাবে বলতে গেলে, পিডিএফ ফাইলগুলির জন্য দুটি প্রধান ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে। প্রথমটি ব্যবসার জন্য, যেখানে আপনি PDF ফরম্যাটে ফর্ম তৈরি করতে পারেন এবং লোকেদের সেগুলি পূরণ করতে পারেন৷ দ্বিতীয়টি ই-বুক পড়ার জন্য। PDF একটি সহজে অ্যাক্সেসযোগ্য ফাইল যা পড়ার জন্য ভাল কাজ করে। সাধারণত, পিডিএফ রিডার অ্যাপ্লিকেশানগুলি শুধুমাত্র এই দুটি ব্যবহারের ক্ষেত্রের একটিকে পূরণ করে এবং এই তালিকায়, আমরা উভয়ের জন্য অ্যান্ড্রয়েডে সেরা পিডিএফ রিডার অ্যাপগুলির একটি নির্বাচন সংকলন করেছি৷ আপনি এখানে ক্লিক করে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সেরা পিডিএফ রিডার অ্যাপগুলিও দেখতে পারেন।
আমরা এমজে পিডিএফ রিডার (গুগল প্লে) এর একটি সম্মানজনক উল্লেখ করতে চাই। এটি একটি সাধারণ FOSS পাঠক যা জিনিসগুলি বেশ ভাল করে। এটি আমাদের 2023 সালের সেরা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের তালিকায়ও রয়েছে।

The best PDF reader apps for Android
সবচেয়ে ভালো ১০ টি পিডিএফ রিডার সবচেয়ে ভালো ১০ টি পিডিএফ রিডার Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ৭:৩৬ AM Rating: 5

১৮+জোকস

 




#০১

স্বামী স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল, বিয়ের আগে তুমি কি কারও সঙ্গে প্রেম করেছ?

স্ত্রী বলল, হ্যাঁ।

স্বামী রেগে বলল, তাহলে ওই হতচ্ছাড়ার নাম বলো। এক্ষুনি গিয়ে দাঁত ভেঙে দিয়ে আসি।

স্ত্রী বলল, ওগো, তুমি একা কি তাদের সবার সঙ্গে পারবে? /:)



#০২

এক ব্যক্তি টেকনিক্যাল সাপোর্টে চিঠি লিখেছে-



ডিয়ার টেকনিক্যাল সাপোর্ট,



গত বৎসর আমি গার্লফ্রেন্ড ৭.০ থেকে ওয়াইফ ১.০ তে আপগ্রেড করেছিলাম। তার কিছুদিনের মাঝেই আমি বুঝতে পারলাম এটি অযাচিত ভাবে একটি চাইল্ড প্রসেসিং শুরু করেছে যা অনেক জায়গা এবং রিসোর্স নিয়ে নিচ্ছে।



শুধু তাই নয়, ওয়াইফ ১.০ ইনষ্টল হওয়ার সাথে সাথে অন্য প্রোগ্রামগুলোর সাথে ইন্টিগ্রেটেড হতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে এটি সব ধরনের সিস্টেম একটিভিটি মনিটর করতে শুরু করেছে। ওয়াইফ ১.০ যেসকল প্রোগ্রামের সাথে কনফ্লিক্ট শুরু করেছে তার কয়েকটি- পোকার নাইট ৭.১, ফুটবল ৫.০, হান্টিং এন্ড ফিসিং ৭.৫ এবং গলফিং ৩.৬।



আমি ওয়াইফ ১.০ কে কিছুতেই ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেসে পাঠিয়ে আমার প্রিয় এপ্লিকেশনগুলো রান করাতে পারছি না। তাই আমি ঠিক করেছিলাম আমার আগের গার্লফ্রেন্ড ৭.০ তে যাওয়ার ব্যপারে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য ওয়াইফ ১.০ তে কোনরকম আনইনস্টল প্রসিডিউর নাই। দয়া করে আমাকে উদ্ধার করুন।



ধন্যবাদ



সমস্যাগ্রস্থ গ্রাহক।







পরের দিন টেকনিক্যাল সাপোর্ট থেকে জবাব এসে হাজির-



জনাব সমস্যাগ্রস্থ ব্যবহারকারী,



এটা খুবই কমন একটি সমস্যা যেটির বিষয়ে প্রায়ই লোকজন অভিযোগ করে থাকে। বেশীরভাগ লোকই গার্লফ্রেন্ড ৭.০ থেকে ওয়াইফ ১.০ তে আপগ্রেড করে এটিকে একটি ইউটিলিটি প্রোগ্রাম ভেবে যা তাদের এন্টারটেইনমেন্টের জন্য কাজে আসবে। কিন্তু আসল সত্যটা হচ্ছে ওয়াইফ ১.০ একটি অপারেটিং সিস্টেম যা ডিজাইন করাই হয়েছে সবকিছুর নিয়ন্ত্রন ভার নিজের কাছে নিয়ে নেয়ার মত করে। এবং এটিকে ডিলিট করার কোন উপায় নেই… এমনকি আনইষ্টল করারও কোন ব্যবস্থা নেই। এটি একবার যেখানে সেটাপ হয়ে যায় সেখানের সমস্ত সিষ্টেম ও প্রোগ্রাম ফাইলকে সরিয়ে জাঁকিয়ে হয়ে বসে। যাকে বলা যেতে পারে উড়ে এসে জুড়ে বসা!



আপনাকে আমরা দুঃখের সাথে জানাতে বাধ্য হচ্ছি যে আপনি ওয়াইফ ১.০ থেকে আর কোনদিনই গার্লফ্রেন্ড ৭.০ তে ফেরত যেতে পারবেন না… কারন এটি আপনাকে তা করতে দিবে না। আপনি দয়া করে ওয়াইফ ১.০ এর সাথে দেয়া সতর্কতাবাণী-মেইনটেনেন্স/চাইল্ড সাপোর্ট ম্যানুয়্যালটা পড়ে নিবেন। আপনার জন্য আমাদের পরামর্শ হলো আপনি ওয়াইফ ১.০ তেই থাকুন এবং চেষ্টা করুন পরিস্থিতি কিভাবে উন্নতি করা যায়। আমরা আপনাকে আরো উপদেশ দেব একটি ব্যাকগ্রাউন্ড এপ্লিকেশন সেটাপ করে নেয়ার ব্যপারে যা এটির যেকোন আর্গুমেন্টে “ইয়েস ডিয়ার” রিটার্ন করবে।



এটি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য আপনি সবসময়ই প্রথমে C:APOLOGIZE! কমান্ডটি ব্যবহার করবেন। কারন শেষ পর্যন্ত আপনাকে ‘APOLOGIZE’ কমান্ডটাই ব্যবহার করতে হবে সিষ্টেম স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আনার জন্য।



তবে আমরা আপনাকে পুরোপুরি নিরাশ করতে চাই না..। বস্তুত ওয়াইফ ১.০ একটি চমৎকার প্রোগ্রাম কিন্তু এটিকে অনেক যত্নের সাথে রাখতে হয়। ওয়াইফ ১.০ অবশ্য বেশ কিছু সাপোর্ট প্রোগ্রাম সহকারে সেটাপ হয়ে থাকে, যেমন ক্লিন এন্ড সুইপ ৩.০, কুক ইট ১.৫ এবং ডু বিল ৪.২।



তবে এসব প্রোগ্রাম ব্যবহারের সময় আপনাকে খুবই সচেতন থাকতে হবে। কারন এই প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে গিয়ে একটু উনিশ বিশ হলেই কিছু থার্ড পার্টি প্রোগ্রাম ‘ক্যাট ক্যাট ১.৯’, ‘কাউ কাউ ৪.৯’ এক্সিকিউটেড হয়ে যাবে। আর একবার যদি তা হয়ে যায়.. তাহলেই সারছে! সিষ্টেমের বারোটা বেজে যাবে। তখন সিষ্টেমের আগের পারফরমেন্স ফেরত আনতে আপনাকে আরো বেশ কিছু ইউটিলিটি টুল কিনতে হবে। আমরা এক্ষেত্র আপনাকে ফ্লাওয়ার ২.১ ও ডায়মন্ড ৫.০ কেনার পরামর্শ দেব।



বিশেষ সতর্কতা: কোন রকমেই.. কোন অবস্থাতেই কোনরকম স্যাক্রেটারী উইথ শর্ট স্কার্ট ৩.৩ সেটাপ করতে যাবেন না। এই ধরনের এপ্লিকেশগুলো ওয়াইফ ১.০ এর সাথে একদমই ম্যাচ করে না এমনকি ফাইবার অপটিক লাইন কেটে গেলেও ৯০০ মেগাবাইট সাইজের অশান্তি ৯.৯ মূহুর্তের মাঝেই ডাউনলোড করে সিষ্টেমে বড় ধরনের ড্যামেজ করে দিতে পারে। বুইঝেন কিন্তু….



আপনার মঙ্গল কামনা করছি



টেকনিক্যাল সাপোর্ট অফিসার।



#০৩

এক ভদ্রলোক তাঁর স্ত্রীকে জোরে একটা চড় মেরে বললেন, ‘যাকে মানুষ ভালোবাসে তাকেই মারে।’



তাঁর স্ত্রী তাঁর গালে দ্বিগুণ জোরে এক চড় মেরে বললেন, ‘তুমি কি ভাব, আমি তোমাকে ভালোবাসি না? :P



#০৪

এক নাপিতনী তার প্রতিবেশী এক মেয়েলোককে নাকের নথ খুলে মুখ ধুতে দেখছিল। নথ খুলতে দেখে ভাবল মেয়েটি বিধবা হয়ে গেছে। দৌড়ে গিয়ে তার নাপিতকে বললো, “ বসে দেখছো কি? শিগগির গিয়ে মেয়েটির স্বামীকে খবর দাও.. তার স্ত্রী বিধবা হয়ে গেছে।”



নাপিত তাড়াতাড়ি উঠি-পড়ি করে মেয়েটির স্বামীর কাছে গিয়ে বলতে লাগলো, “হুজুর বরবাদ হয়ে গেছে! আপনার স্ত্রী বিধবা হয়ে গেছে।”



এই খবর শোনা মাত্র লোকটি ডুকরিয়ে কাঁদতে লাগলো, “হায় আমার কি হবে?”



বন্ধুরা সব ছুটে আসলো। জিজ্ঞাসা করলো, “কাদঁছো কেন? খুলে বল কি হয়েছে?”



বললো, “সর্বনাশ! আমার স্ত্রী বিধবা হয়ে গেছে।”



বন্ধু বললো, “জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পেয়েছে নাকি তোমার? তুমি স্বশরীরে জীবন্ত বসে আছ আর তোমার স্ত্রী বিধবা হয়েছে?”



হাঁ তা তো ঠিকই। জীবিতই তো আছি। কিন্তু খবর যে নির্ভরযোগ্য লোক দিয়েছে! না কেঁদে পারি না। ”



#০৫

একটা ছাগল হাঁটছিল ,নিউটন এটাকে ধরে থামালেন আর তখন ১ম সুত্র আবিস্কার হল " একটি বস্তু কে যতক্ষণ পর্যন্ত থামান না হয় তা চলতে থাকে "

এর পর নিউটন ছাগলটিকে (F) বল এ একটা লাথি দিলেন ছাগল বলে উঠলো "ম্যা" ( MA) আবিস্কার হল দ্বিতীয় সুত্র F=MA .

এর পর ই ছাগলটি নিউটন কে কষে একটা লাথি দিল আর নিউটন আবিস্কার করলেন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুত্র " সকল ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে।



#০৬

পাগলাগারদের ডাক্তার এক পাগলের

কাছে গিয়ে বললঃ



আপনার জন্য একটা সুসংবাদ আর একটা দুঃসংবাদ

আছে। কোনটা আগে শুনতে চান?



পাগল ফিচ করে হেসেঃ সুসংবাদটাই আগে বলেন।



ডাক্তারঃ সুসংবাদটা হলো, আপনি আজ যে দুঃসাহসিক কাজ করেছেন,হাসপাতালের পুকুরে ডুবন্ত আরেক পাগলকে যেভাবে ঝাপিয়ে পড়ে উদ্ধার করেছেন, তাতে আমরা নিশ্চিত আপনি আর পাগল নন। আপনি সুস্থ হয়ে গেছেন। এবার আপনি নিশ্চিন্তে বাড়ি যেতে পাড়েন।



পাগলঃআর দুঃসংবাদটা কি?



ডাক্তারঃ দুঃসংবাদটা হচ্ছে, আপনি যে পাগলকে পানি থেকে উদ্ধার করেছিলেন, সে পরবর্তিতে আত্মহত্যা করেছে পুকুরের পাশের আমগাছের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে।



পাগল আবারো ফিচ করে হেসেঃ

.

.

.

.

.

.

.



“আরে না! ও তো নিজে গলায় দড়ি দেয় নাই। পুকুর থিকা উঠানোর পর দেখলাম ব্যাটা ভিজা পুরা চুপচুপা হইয়া রইছে, তাই আমিই ওরে আম গাছের লগে লটকাইয়া শুকাইতে দিছিলাম”



#০৭

ভোলাবাবু রাতে বেঘোরে ঘুমোচ্ছেন এমন সময় স্ত্রীর ভীষণ ডাকাডাকিতে ধড়মড়িয়ে উঠলেন।

বললেনঃ কি হয়েছে, বেশ তো ঘুমোচ্ছিলাম,আবার ডাকাডাকি কেন?

স্ত্রীঃ কেন আবার তোমাকে যে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়নি। :-*



#০৮

বল্টুর কাছে একবার যমদূত আসলো,

বলল, “তোমার পরপারে যাওয়ার সময় হয়েছে”

বল্টুঃ কিন্তু আমি এখন যেতে চাই না!!

যমদূত: কিন্তু আমার লিস্টের সবার

উপরে তোমার নাম লেখা আছে”

বল্টুঃ ঠিক আছে। তুমি একটু খেয়ে দেয়ে আরাম করো ,

এরপর আমাকে নিয়ে যেও”

তো যমদূত খেয়ে দেয়ে আরামের একটা ঘুম দিলো।

বল্টু তখন যমদূতের লিস্ট থেকে উপরের নিজের

নামটা কেটে দিয়ে সবার শেষে লিখে দিলো।

যমদূত যখন ঘুম থেকে উঠলো; বলল,

.

.

.

.

.

.

.

.

”তোমার ব্যাবহারে আমি

খুশি হয়েছি,এখন আমি লিস্টের নিচ থেকে শুরু করবো B-)



#০৯

দুই বন্ধুর মধ্যে কথা হচ্ছে—

প্রথম বন্ধু: জানিস, আমার আর তমার বিয়ে হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় বন্ধু: তাই নাকি রে! আগে তো বলিসনি। এত দিন প্রেম করলি। তা কবে তোদের বিয়ে হলো?

প্রথম বন্ধু: আমার বিয়েটা হয়েছে এ মাসের ১৬ তারিখ। আর তমার ২৫ তারিখ। :P



#১০

রাজা গোপাল ভাড় কে প্রশ্ন করল,গাধা আর তোমার মধ্যে ব্যবধান কতটুকু?



গোপাল রাজা থেকে নিজের দুরত্ব টা মেপে তারপর জবাব দিল,বেশি না ,মাত্র সাড়ে চার হাত ব্যবধান | :P



#১১

ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। এমন সময় তিনজন লোক ট্রেনের দিকে দৌড়ে আসছে দেখে করিত্কর্মা গার্ড টেনে-হিঁচড়ে তাদের মধ্য থেকে দু’জনকে তুলতে পেরেছে। ট্রেনের গতি বেড়ে যাওয়ায় বাকিজনকে তুলতে পারেনি।

গার্ড : ব্যাপার কী! এত কষ্ট করে তিনজনকে তুলতে না পারলেও দুজনকে তো তুলেছি, অথচ আপনারা একটুও ধন্যবাদ দিচ্ছেন না যে?

.

.

.

.

.

.



লোক দু’জন : ধন্যবাদ দিই কী করে! যেইজনকে ফেলে এসেছেন, আসলে উনিই ছিলেন যাত্রী। আর আমরা এসেছিলাম ওনাকে ট্রেনে উঠিয়ে দিতে।



#১২

আপনারা জানেন জেমস বন্ড তার নিজেস্ব স্টাইলে হিরো।

কেউ যখন তাকে তার নাম জিজ্ঞাসা করে, তখন সে তার নিজেস্ব স্টাইলেই বলে, “বন্ড, জেমস বন্ড”।



গত বছর যখন সে বাংলাদেশে এসে উঠেছিল সোনারগা হোটেলে। হোটেল ম্যানেজার মি. পাশা এর সাথে তার কথা হচ্ছে.....



মি. পাশা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: হ্যালো, আপনার নাম?



জেমস বন্ড জবাব দিল: বন্ড, জেমস বন্ড.



তারপর জেমস বন্ড তাকে জিজ্ঞাসা করল: আপনার নাম?



মি. পাশা বললেন:



পাশা, চৌধুরী পাশা,



রহমান চৌধুরী পাশা,



সাইদুর রহমান চৌধুরী পাশা,



ইবনে সাইদুর রহমান চৌধুরী পাশা,



খান ইবনে সাইদুর রহমান চৌধুরী পাশা,



রহমান খান ইবনে সাইদুর রহমান চৌধুরী পাশা,



ফজলুর রহমান খান ইবনে সাইদুর রহমান চৌধুরী পাশা



মোহাম্মদ ফজলুর রহমান খান ইবনে সাইদুর রহমান চৌধুরী পাশা



কালাম মোহাম্মদ ফজলুর রহমান খান ইবনে সাইদুর রহমান চৌধুরী পাশা,



আবুল কালাম মোহাম্মদ ফজলুর রহমান খান ইবনে সাইদুর রহমান চৌধুরী পাশা



সেই দিন থেকে, কেউ যদি তার নাম জিজ্ঞেস করে,



সে শুধু বলে, জেমস বন্ড.



#১৩

বাসে প্রচন্ড ভিড়। একজন লোক উঠারচেষ্টা করতেই বাসের ভেতরের সবাই চিতকার করে, "খবরদার আর একটা লোকও উঠতে পারবে না।"

__ কিন্তু আমাকে যে উঠতেই হবে।

__তুমি কোন নবাবের বাচ্চা যে তোমাকে উঠতেই হবে?

__নবাবের বাচ্চা না, আমি এই বাসের ড্রাইভার। :P



#১৪

বাঘ বাঘিনিকে kiss করতে চাচ্ছিলো...

বাঘিনি অতি সন্তর্পনে এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলো ..

বাঘ জিজ্ঞেস করলো : কি খুঁজছ?

বাঘিনি : দেখতিছি, Discovery Channel আছে কিনা ; ব্যাটারা একটুও Privacy রাখে নাই :(



#১৫

চলন্ত প্লেন এ ঘোষনা দেওয়ার পর পাইলট মাইক অফ করতে ভুলে যায়্।



একটু পর পাইলট তার কো-পাইলট কে বলতেছেঃ আমি এখোন কফি খাবো, কফি খেয়ে এয়ার হোস্টেস কে "kiss" করবো।



মাইক এ এটা সবাই শুনতে পারলো, এয়ার হোস্টেস সেটা শুনে মাইক অফ করার জন্য দৌড় দিলো। কিন্তু দৌড়াতে যেয়ে হোচট খেয়ে পড়ে গেলো।



তখন পাশের এক লোক বলতেছেঃ আরেহ মেয়ে , এতো অস্থির হইয়ো না, পাইলোট এর কফি খাইতে এখোনো দেরি আছে :P



#১৬

রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে......

এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নারীজাতিকে একদম রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে।

—মানে?

—মানে, দেখিস না, প্রতিটি স্কুলের সামনে মায়েরা কেমন রাস্তায় বসে থাকে!



#১৭

শিক্ষকঃ কোন পাখি সবচেয়ে দ্রুত উড়তে পারে ???

ছাত্রঃ "বান্দর"

শিক্ষকঃ অপদার্থ; তোর বাপ কি করে রে??

ছাত্রঃ ট্যারা-মকলেস gang-এর shooter

শিক্ষকঃ সাবাশ ব্যাটা !!! সঠিক উত্তর সঠিক উত্তর!



#১৮

জঙ্গলে এক চিতা বিড়ি খাচ্ছিল তখন এক ইঁদুর আসলো আর বলেঃ “ভাই নেশা ছাইড়া দেও, আমার সাথে আস দেখ জঙ্গল কত সুন্দর” চিতা ইদুরের সাথে যাইতে লাগলো সামনে হাতি ড্রাগ নিচ্ছিল ইঁদুর হাতিকেও এক ই কথা বলল এর পর হাতিও ওদের সাথে চলতে শুরু করলো কিছুদুর পর তারা দেখল বাঘ হুইস্কি খাচ্ছে ইঁদুর যখন তাকেও এক ই কথা বলল সাথে সাথে বাঘ হুইস্কির গ্লাস রেখে ইদুরকে দিল কইসা একটা থাপড়!! হাতিঃবেচারাকে কেন মারতাছ??

বাঘঃ এই শালা কালকেও গাজা খাইয়া আমারে জঙ্গলে ৩ ঘণ্টা ঘুরাইছিল! X( X(



যারা কষ্ট করে এই বাসি পচা কৌতুক গুলো পড়ে ১৮(+) এর বিন্দুমাত্রও খুজে পাননি তাদের কে বলছি, ১৮(+) বলতে এখানে ১৮টি কৌতুক সাথে একটি ফ্রি বোঝানো হয়েছে ;) B-) :P

এই নিন ১৮টির সাথে একটি কৌতুক ফ্রি ;)




#১৯

মফিজ গেল তার জ্যোতিষ বাবার কাছে। ডান হাত বাড়িয়ে বলল, বাবা! আমার ডান হাত চুলকায়। কী আছে সামনে বলেন?

জ্যোতিষ বাবা বলল, তোর অর্থ প্রাপ্তি সুনিশ্চিত!

মফিজ বলল, বাবা বাম হাতও চুলকায়!

বাবা বলে, কী বলিস! তোর আরও অর্থ আসবে।

মফিজ আনন্দিত গলায় বলল, বাবা বাবা, আমার ডান হাঁটু চুলকায়।

জ্যোতিষ বলল, তোর বিদেশ যাত্রা হবে।

খুশিতে গদগদ আবুল মহা উৎসাহের সাথে বলল, আমার বাম হাঁটুও চুলকায়!!



বিরক্ত হয়ে জ্যোতিষী বলল, ধুরু হারামজাদা, তোর তো চুলকানি হয়েছে যা ডাক্তার দেখা!!! :P :P :P
১৮+জোকস ১৮+জোকস Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১০:০১ AM Rating: 5

বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর দশটি সাপ!

বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর দশটি সাপ
লিখেছেনঃ সজল আহমেদ লেখক কে ফেসবুকে বন্ধু বানাতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

যদিও পৃথিবীর বিষধরদের তালিকা আর তাদের বিষের তীব্রতার কাছে বাংলাদেশের বিষধর সাপদের কিছু মনে করা হয়না তবুও, বাংলাদেশে মজুদ থাকা বিষধর সাপদের অবহেলা করা যায়না!

বর্তমানে বাংলাদেশ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯৩ বর্গকিলোমিটারের ছোট দেশ হলেও এখানে বিকশিত হয়েছে ৯৪ প্রজাতির সাপ। এদের মধ্যে ২৬টি প্রজাতি মারণ বিষের অধিকারী। আবার ২৬টির মধ্যে ২০টি মারাত্মক বিষধর বাকিগুলোর মধ্যে অন্তত ৬টি প্রজাতির সাপ খুব ভালোভাবে কামড়ালে মানুষ মারা পড়বে।

বাংলাদেশে এতগুলো বিষধর সাপ রয়েছে, শুনে অনেকেই নিশ্চয়ই চমকে উঠবেন। একটু খবর নিলেই দেখতে পাবেন, বিষয়টি আবার তত ভয়ংকর নয়। ২৬ প্রজাতির মারণ বিষের সাপের মধ্যে ১২ প্রজাতিই হচ্ছে সামুদ্রিক সাপ। যাদের সাথে ভুলে হয়তোবা আপনার দেখা হতে পারে মানে যদি আপনি কখনো সমুদ্রে যান তাহলে। বাকি ১৪টি প্রজাতি ডাঙার সাপ। বন্ধুরা আজ আমরা এই ২৬টি সাপের মধ্য থেকে সবচেয়ে মারাত্মক দশটি বিষধর সাপের কথা জানবো, যারা কিনা সোবল দেওয়ার পর এন্টি ভেনম না নিলে মৃত্যু অনিবার্য! কিছুকিছু সাপ রয়েছে যারা কামড়ালে এন্টি ভেনমেও কোন লাভ হয়না। এখনো বাংলাদেশের কোন দশটি সাপ বেশি মারাত্মক সে বিষয়ে কেউ লেখালেখি করেনি বাংলা ভাষায়। সাপ নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করার ফলস্বরূপ এই দুঃসাহস দেখালাম। কাজেই ভুল ত্রুটি মার্জনার চোখে দেখবেন আশাকরি।

বন্ধুরা লেখাটি খুবই ইনফরমেটিভ হতে চলেছে তাই ধৈর্য্য ধরে পড়তে থাকুন। যদি মনেকরেন, নাহ আমার ধৈর্য্যে কুলাবেনা তাহলে তাদের জন্যে এই ভিডিওটি:


কেউটে সাপ (Naja kaouthia)
কেউটে সাপ (Naja kaouthia)
কেউটে সাপ (Naja kaouthia)

কেউটে বাংলাদেশের বিষধরদের প্রধান সাড়ির ক্ষ্যাপটে মারাত্মক বিষধর সাপ! বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা পড়ে কালকেউটের কামড়ে। বাংলাদেশের সর্বত্র এই সাপ পাওয়া যায়। দক্ষিণবঙ্গে কেউটে, বরিশালে কালিঞ্জিরি বা কালিজাইত, চট্টগ্রাম হানাস, উত্তরে জাতিসাপ নামের এই সাপ লম্বায় তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত হয়। কেউটে সাপ অন্যান্য ছোট সাপ খায়। এছাড়াও ব্যাঙ, বাদুড়, মুরগীর বাচ্চা, মাছ ইত্যাদিও কেউটের প্রিয় খাবার।

এরা জলে অথবা জলের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। এরা খুব সুন্দর ফনা ধরে যাকে ভয়ংকর সুন্দরও বলা যায়। বাচ্চা কেউটের ফনা পটাটো চিপসের মতো লাগে। বন্ধুরা ভয়ঙ্কর কথা তো এই, বাচ্চা কেউটে প্রাপ্তবয়স্ক কেউটের চেয়ে তিনগুণ বেশি বিষাক্ত!

এদের বিষে অতিমাত্রায় নিউরোটক্সিন থাকায় কামড়ালে ও বিষ প্রয়োগ করলে মানুষ বাঁচানো প্রায় অসম্ভব। এরা ড্রাইবাইট খুবই কম দেয়। কেউটে প্রজাতির যে কয়টি সাপ বাংলাদেশে দেখা যায় এর প্রত্যেকটিই ভয়ংকর বিষধর প্রজাতির! প্রতিবছরই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এই সাপের কামড়ে শতশত মানুষের মৃত্যু হয়!
.

গোখরা (Cobra)
Cobra snake jpg
গোখরা (Cobra) - Kalinjiri

পদ্ম গোখরা, খয়ে গোখরা, খরিশ ইলপিডি গোত্রের একটি অতিপরিচিত সাপের নাম। কেউটের মতো সাপুড়েদের কাছে এদের বিস্তর দেখা যায়। এরা প্রধানত শুকনো এলাকা পছন্দ করে। বাড়ির কাছে ইটের পাঁজা, পুরোনো বাড়ির ধ্বংসাবশেষ, গাছের কোটর ও ইঁদুরের গর্ত পেলে এরা সহজে সেখানে বসতি গড়ে। গোখড়ারই একটি সর্বজন পরিচিত উপপ্রজাতি খয়ে গোখড়া।


গোখরা (Cobra)
গোখরা (Cobra)

এরাও অত্যন্ত বিষধর! গোখড়া ভোরবেলা ও সন্ধ্যারাতে বেশি তৎপর থাকে। দিনের বেলায় তেমন বাইরেই আসে না। কেউটের মতো এরাও অন্যান্য সাপ খেতে পছন্দ করে। নিউরোটক্সিন বিষের অধিকারী গোখরা লম্বায় চার–পাঁচ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।
গোখরা (Cobra) 2
গোখরা (Cobra) 2

এরা কামড়ানোর পর দ্রুত হসপিটালে না নিলে ২-৩ ঘন্টার মধ্যে মৃত্যু অবধারিত! কিছুক্ষেত্রে হসপিটালে নিলেও কোন লাভ হয়না। এর কারণ হিসেবে বলা যায় ওঝার হাতুড়ে ঝারফুক। বাংলাদেশ ও ভারতের অধিকাংশ সাপের কামড়ে মৃত্যুর কারণ ওঝা-বদ্যি। এরাই সাপে কাটা রোগীকে ঝারফুক এর নামে মেরে ফেলে!

.

কালাচ সাপ (Common Krait)
কালাচ সাপ (Common Krait)
কালাচ সাপ (Common Krait)

গোখরা, কেউটেদের চেয়েও কড়া বিষের অধিকারী কালাচ সাপের তিনটি উপপ্রজাতি অনেক মানুষের জীবন ধ্বংসের কারণ। যদিও এটি কেউটেদেরই একটি উপপ্রজাতি তবুও এরা ফনা ধরতে পারেনা। এটি

আড়াই থেকে তিন ফুট লম্বাও হয়। দেশে মারা পড়া ২০ শতাংশ মানুষ এদের কামড়ে মারা যায়। পশ্চিমবঙ্গে এর কামড়ে মৃত্যুর হার আরো বেশি হকে পারে। কালাচ সাপ এমনই এক সাপ যাকে বলা যায় নীরব ঘাতক! রাতে এরা চলে আসে বিছানায়, আর কামড় বসিয়ে চলে যায়। যাকে কামড় বসায় সে টেরও পায়না। আর বিষের উপসর্গও তখন শুরু হয়না। সকালে শুরু হয় উপসর্গ, আর তখন কিনা বিষ সারা শরীরে ছড়িয়ে পরে ফলে কিছু আর করারও থাকেনা। কালাচ কে ইংরেজীতে বলা হয় কমন ক্রেইট।

ওয়ালস ক্রেইট
ওয়ালস ক্রেইট

কালাচেরই আরেকটি প্রজাতি ওয়ালস ক্রেইট। এরা অত্যন্ত ভয়ানক এক সাপ।  আরো ভয়ংকর হলো, কালাচ সাপের এন্টি ভেনম সর্বত্র পাওয়া গেলেও ওয়ালস ক্রেইটের এন্টি ভেনম বাংলাদেশের কোথাও পাওয়া যায়না। ফলে ওয়ালস ক্রেইট কামড়ালে মৃত্যু অনিবার্য!
.

শঙ্খিনী (Banded Krait)
ব্যান্নেড ক্রেইট বা শঙ্খিনী
ব্যান্নেড ক্রেইট বা শঙ্খিনী
ছবিঃ আদনান আজাদ আসিফ

শঙ্খিনীও কালাচ কেউটেদের একটি গোত্র। ফনাহীন সাপেদের মধ্যে সাপুড়েরা এদেরই শুধু কাছে রাখেন। এটি অত্যন্ত সুন্দর এক সাপ, গায়ে হলুদ কালো ছোপ এর ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য প্রকাশ করে। সাপটি মারাত্মক বিষধর কিন্তু শান্ত স্বভাবের। একে চরম পর্যায়ের আঘাত না করলে কাউকে কামড়ায় না। বন্ধুরা মজার ব্যাপার হলো শঙ্খীনি মানুষের উপকার করে। এরা কমনক্রেইট বা কালাচ সাপ খায়, আর কালাচ সাপ হলো সেই ধূর্ত যারা মানুষকে নীরবে কামড়ে মেরে ফেলে।

.

রাসেল ভাইপার (Russell Viper)

রাসেল ভাইপার (Russell Viper)
রাসেল ভাইপার (Russell Viper)

ভাইপারিডি পরিবারভুক্ত একটি অন্যতম বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার । এর বাংলা নাম চন্দ্রবোড়া। মূলত কৃষকের ধান ক্ষেত ও ইঁদুরের গর্তে এদের দেখা মেলে। এই সাপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষাক্ত না হলেও এর ক্ষ্যাপটে স্বাভাব ও লম্বা লম্বা বিষদাঁতের জন্য অনেক বেশি লোক দংশিত হন এর দ্বারা। বিষক্রিয়ায় রক্ত জমা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অত্যধিক রক্তক্ষরণে অনেক দীর্ঘ যন্ত্রণার পর মৃত্যু হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভয়ে হার্ট অ্যাটাক মৃত্যুর কারণ। রাসেল ভাইপার কামড়ানোর ৭২ ঘন্টা অর্থাৎ ৩দিন পর মানুষের মৃত্যু হয়। রাসেল ভাইপারের দেহ মোটাসোটা, লেজ ছোট ও সরু। প্রাপ্তবয়স্ক সাপের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত এক মিটার; দেহের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১.৮ মিটার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। রাসেল ভাইপার নিচু জমির ঘাসযুক্ত উন্মুক্ত পরিবেশে এবং কিছুটা শুষ্ক পরিবেশে বাস করে। এরা নিশাচর, এরা খাদ্য হিসেবে ইঁদুর, ছোট পাখি, টিকটিকি ও ব্যাঙ খায়।

রাসেল ভাইপার বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক সাপ। এটি সব বিভাগে সচরাচর এবং ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে এই সাপ বেশি পাওয়া যায়। দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল ও পটুয়াখালীর দু-একটা এলাকায় এবং নদীয়া জেলাসহ পশ্চিমবঙ্গের অংশে এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, চীনের দক্ষিণাংশ, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, বার্মা ও ইন্দোনেশিয়ায় পাওয়া যায়।
.

ব্ল্যাক ব্যান্ডেড সী ক্রেইট -Black banded sea krait (Laticauda Laticaudata)
ব্ল্যাক ব্যান্ডেড সী ক্রেইট -Black banded sea krait
ব্ল্যাক ব্যান্ডেড সী ক্রেইট -Black banded sea krait

বাংলায় কালো- বলয়ী সামুদ্রিক কেউটে Elapidae পরিবারের ঘাঁড়হীন মাথা চিকন স্থুল এই সাপটি বাংলাদেশের প্রবাল সামুদ্রিক অঞ্চলের সাপ। এই সাপ বাংলাদেশের অন্যতম বিষাক্ত সাপ। এরা খুবই শান্ত প্রকৃতির। এরা সাধারণত বেশিরভাগ সময়ই সমুদ্রের নিচে থাকে। এদের পাওয়া যায় প্রবাল সামুদ্রিক অঞ্চল সেন্ট মার্টিনের উষ্ণ জলে। ব্ল্যাক ব্যান্নেড সী ক্রেইট ইয়েলো গোটফিশের সাথে জোটবেঁধে মাছ শিকার করে। শিকারকে প্রথমে এক সোবলে প্যারালাইজড করে দেয়, প্যারালাইজড হলে শিকার সোজা গিলে ফেলে। এই সাপ এতটাই শান্ত যে, এখনো মানুষকে কামড়ানোর রেকর্ড নেই। তবে হ্যাঁ যখন এরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকে তখন বসিয়ে দিতে পারে নিউরোটক্সিন বিষ সমৃদ্ধ মারাত্মক মরণঘাতি কামড়! যে কামড়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভবলীলা সাঙ্গ হতে পারে যে কারোরই!



ইয়েলো বেলী সী স্নেক-Yellow-belly sea snake (Pelamis platurus)
ব্ল্যাক ব্যান্ডেড সী ক্রেইট -Black banded sea krait

হলুদ-পেট সামুদ্রিক সাপ পেলামিস প্লাটারাস পরিবারের এই সাপ প্রায়ই সমুদ্রতটে বালুর উপর দেখতে পাওয়া যায় আবার কখনো কখনো বাংলাদেশের সমুদ্রে জেলেদের জালে ধরা পরে। সাইজে ছোট বিধায় জেলেরা একে ততটা পাত্তা দেয়না। জেলেরা সাধারণত এদের লেজ ধরে দু একবার ঘুরিয়ে সজোরে নিক্ষেপ করে দূরে কোথাও। অথচ তারা যদি জানতো ইয়েলো বেলি সি স্নেকের বিষ কেউটে বা কোবরার বিষের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি মারাত্মক তাহলে হয়তো ভুলেও এমনটি করতোনা। এরা

Neurotoxin বিষ সমৃদ্ধ! একবার যদি এই শান্ত সাপটি রেগেমেগে কাউকে কামড় বসাতেই পারে তবে তার ভবলীলা সাঙ্গ হবে মিনিট বিশেকের মধ্যেই!

.

কিং কোবরা-King cobra
কিং কোবরা-King cobra
কিং কোবরা-King cobra

(Ophiophagus hannah), রাজ গোখরা, শংঙ্খচূড় Elapidae পরিবারের এই সাপ মারাত্মক Neurotoxin বিষ সমৃদ্ধ। এর কামড়ে নাকি হাতিও মারা যায়! কিং কোবরা কে বলাহয় বিষধর সাপদের রাজা। এরা আকারে ১২-১৮ ফুট হয়।
King cobra  1
King cobra

বন্ধুরা একটি ভালো খবর হলো বাংলাদেশের লোকালয় এদের দেখা মিলবেনা, এই সাপের দেখা মেলে সুন্দরবনে। বাংলাদেশের কোন মানুষ কিং কোবরার কামড়ে মারা গেছে এমন রেকর্ড নেই । তবে হ্যাঁ, এরা লোকালয়েও আসে। আর আপনি যদি বারবার কিং কোবরাকে বিরক্ত করেন তবে এর ভয়ঙ্কর রূপ দেখতে আপনার শুধু ওর ঘাড় ফেরানোর সময়টুকু অপেক্ষা করতে হবে।
King cobra 2
King cobra 


এদের কোবরা বললেও এরা আসলে কোবরার কোন জাত নয় তবে হ্যাঁ এরা কোবরা আর কেউটেদের মতো সাপ খেতে ভালোবাসে। এরা এতটাই সাপ খেতে ভালোবাসে যে মাঝেমাঝে নিজের ছোট সব প্রজাতিরও খেয়ে ফেলে এমনকি ডিম পারার পর স্ত্রী সাপটি পুরুষ সাপটিকেই খেয়ে ফেলে!

.
ইয়েলো লিপ্ড সী স্নেক-Yellow-lipped sea snake (Laticauda colubrina) হলুদ- মুখো সামুদ্রিক সাপ।
Yellow-lipped sea snake
ইয়েলো লিপ্ড সী স্নেক


এরা দিনের বেশিরভাগ সময়ই সমুদ্রের নিচে থাকে। যখন বিশ্রামের প্রয়োজন হয় তখনই উপরে উঠে আসে। এদের প্রাপ্তবয়স্করা প্রায় সবসময়ই পানির নিচে থাকে। ইয়েলো লিপড সি স্নেকের একটি পুরুষ লম্বায় হয় সর্বোচ্চ পাঁচফুট এক ইঞ্চি আর ফিমেল সাপ মেলদের তুলনায় বড় হয়। একটা ফিমেল সাপ লম্বায় হয় পাঁচফুট সাতইঞ্চি।

এই সাপটির রয়েছে হাইলি নিউরোটক্সিন বিষ যা সাপটি তার শিকার ধরতে ব্যবহার করে। বন্ধুরা সাপটি মোটেই আক্রমনাত্বক নয়, বরংচ এরা মানুষদের এড়িয়ে চলে। তবে যদি আপনি এটাকে দেখেই লাঠি নিয়ে তেড়ে যান তবেই আপনার ভবলীলা সাঙ্গ হতে পারে!
.

হুকনোসড স্নেক- Hook-nosed sea snake (Enhydrina schistosa)

Hook-nosed sea snake
হুকনোসড স্নেকহুকনোসড স্নেক
বা বড়শি- নাক সামুদ্রিক সাপ Elapidae পরিবারের এক মারাত্মক বিষধর সাপ! এই সাপ পাওয়া যায় কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন প্রবাল সমুদ্রে।

এরা অন্যান্য সি স্নেকের মতো মোটেই শান্ত নয় বরংচ খুবই বদমেজাজি আর আক্রমনাত্বক এরা! পৃথিবীতে এ পর্যন্ত সমুদ্রে যতগুলো সাপের কামড়ের রেকর্ড হয়েছে তার মধ্যে ৫০% এই সাপের দ্বারাই হয়েছে! এক কামড়ে এই সাপ ১.৫ মিলিগ্রাম মারাত্মক প্রাণঘাতি হাইলা নিউরোটক্সিন (Neurotoxin) ও মাইওটক্সিন (Miotoxin) বিষ ঢেলে দেয়! এই সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার ১০০% কেননা এই সাপের বিষের কোন এন্টি ভেনম নেই!
.
এই দশটি সাপ বাংলাদেশের প্রথম সাড়ির বিষধর সাপ। এর বাইরেও অনেক বিষধর সাপ রয়েছে তবে কিনা সে সাপগুলো এই ১০টি সাপের কাছে কিছুই নয়। সাপ নিয়ে বিস্তর পড়াশুনা করার পর এই ১০টি সাপই আমার কাছে সব থেকে বিষধর মনে হয়েছে। আপনার পরিচিত কোন বিষধর সাপের নাম বাদ গেলে কমেন্টে লিখতে পারেন। সাপ বিষয়ে বেশি আগ্রহীরা ইউটিউবে এই প্লে লিস্টের ভিডিওগুলো অফলাইন ডাউনলোড করে রাখতে পারেন: http://bit.ly/317jpDf

অনেকটা সময় নষ্ট করলাম। বেশ বড় হয়ে গেছে লেখাটা। আর বাড়াচ্ছিনা। বিদায় নিচ্ছি। ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন সবসময়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর দশটি সাপ! বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর দশটি সাপ! Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ৬:৩৬ AM Rating: 5

সেবা প্রকাশনীর স্বরূপ



Sheikh Abdul Hakim

ইফতেখার আমিন সাহেবকে অজস্র ধন্যবাদ। সম্প্রতি ‘দিন যায় কথা থাকে’-শিরোনামে এক পোস্টে তিনি সেবা প্রকাশনী এবং কাজী আনোয়ার হোসেন সাহেবকে নিয়ে যা কিছু লিখেছেন তা বর্ণে বর্ণে সত্যি।

কাজী সাহেব আমাদের মতো লেখকদের বেআইনিভাবে শোষণ করছেন, এই কথাটা বেশ ক’বছর আগেই কপিরাইট অফিসকে আমি লিখিত ভাবে জানিয়েছি। তবে দেশের মানুষকে কখনো কিছু জানাইনি। তা না জানানোর মূল কারণ ছিলো নিজে বই লিখে অন্য একজনের নামে ছাপতে দেয়াটা সম্মানজনক বলে কখনো মনে হয়নি আমার। এই বোধ আমাকে সব সময় কষ্ট দিয়েছে, নিজেকে আমার মানুষ হিসেবে খুব ছোট বলে মনে হয়েছে, এবং তার পরিণতিতে আমার ভেতর নিজেকে লুকিয়ে রাখার একটা মনোবৃত্তি তৈরি হয়ে যায়, আমি সব সময় সব কিছু থেকে পালিয়ে থাকতে পারলেই স্বস্তি বোধ করেছি। আর এ কারণে বিভিন্ন চ্যানেল থেকে আমার সাক্ষাৎকার নিতে চাইলেও আমি কখনো তা দিইনি, ওদেরকে আমি সবিনয়ে জানিয়েছি যে এত প্রচার পাবার যোগ্য মানুষ আমি নই।


আজও আমার মনে পড়ে এটিএন-এর জনপ্রিয় উপস্থাপিকা মুন্নি সাহা আমাকে ফোন করে যখন বললেন তিনি পুরো টেকনিক্যাল টিম নিয়ে আমার বাড়িতে চলে আসছেন আমার সাক্ষাৎকার নিতে, আমি তখন তাঁকে বলেছিলাম, যে মানুষ নিজের নামে মাত্র গোটা দশ-বারো বই লিখল, আর চারশর ওপর বই লিখল আরেক মানুষের নামে, তার কি নিজেকে নিয়ে গর্ব করার মতো কিছু বলার থাকে? দেশ এবং মানুষের জন্যে ত্যাগ আর অবদান আছে এমন ব্যক্তি সমাজের নানা স্তরে আপনি অনেক খুঁজে পাবেন, আমাকে বাদ দিয়ে তাদের কাছে যান, আমি এমন কিছু নই যে দুনিয়ার মানুষকে সেটা জানাতে হবে।


বেশ অনেক বছর হলো আমার সিওপিডি হয়েছে, মাঝে মধ্যে শ্বাসকষ্ট মারাত্মক হয়ে ওঠে।
আমি ২৬০টার বেশি মাসুদ রানা লিখেছি, কুয়াশা সিরিজের বই লিখেছি ৪০ কি ৪২টা, আরও লিখেছি নিজেকে জানো সিরিজের গোটা দুই-তিন বই, রহস্যোপন্যাস গোটা আটেক, জুল ভার্নও পাঁচ-সাতটা অনুবাদ করেছিÑসবই হয় কাজী আনোয়ার হোসেনের নামে, নয়তো তাঁর নিজের পছন্দের কোনো ছদ্মনামে (যেমন, বিদ্যুৎ মিত্র), তবে এসব বইয়ের একটারও কপিরাইট আমি কাজী সাহেবের কাছে বিক্রি করিনি।

আমাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কপিরাইট অফিস অনেক বার কাজী সাহেবকে সশরীরে উপস্থিত হতে বলা সত্ত্বেও একবারও তিনি আসেননি, তার বদলে চিঠির মাধ্যমে আমার দাবি অস্বীকার করতে গিয়ে বলেছেন আমি একটাও মাসুদ রানা লিখিনি, বই লেখার কোনো ক্ষমতাই আমার নেই। এটা শুনে সত্যি আমার হাসি পেয়েছিল। হাসি পাওয়ার কারণ, আমি যে মাসুদ রানা লিখছি, এটা এত বেশি মানুষ জানতেন যে সেটা ছিলো ওপেন সিক্রেট। যারা জানতেন তাঁদের মধ্যে সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিল্পী হাশেম খান আছেন ( আমার যদি ভুল না হয় তিনি সম্ভবত আমার লেখা মাসুদ রানার প্রচ্ছদও এঁকেছেন ), আছেন ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা শাহরিয়ার কবির, স্বনামধন্য ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, সাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরি, ¯েœহধন্য আলিম আজিজ, সাহিত্যিক এবং কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, শিল্পী ধ্রুব এষ, সাপ্তাহিক বিচিত্রা সম্পাদক প্রয়াত শাহাদত চৌধুরি, প্রয়াত কবি শহীদ কাদরীসহ সমাজে নিজ মেধার গুণে প্রতিষ্ঠিত আরও বহু ব্যক্তি।
কাজী সাহেব একটা চুক্তিপত্রও দেখাতে পারবেন না যে আমি তাঁকে লিখিতভাবে কপিরাইট অধিকার দিয়েছি যার বলে তিনি আমার লেখা একেকটা বই দশবার-বিশবার রিপ্রিন্ট করে গত চল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে সম্পদের পাহাড় গড়বেন। প্রথম প্রথম কুয়াশা লিখলে দু’শ টাকা করে দিতেন তিনি। তারপর তিনশ করে। সেটা ষাটের দশকে। মনে পড়ছে, ওই সময় বাইরের লেখক বলতে সেবা প্রকাশনীতে আমি একাই ছিলাম। শত চেষ্টা করেও কাজী সাহেব দেড়-দুই যুগ আমার বিকল্প লেখক খুঁজে বের করতে পারেননি। তিন গোয়েন্দার জনপ্রিয় লেখক রকিব হাসানকে আমিই সেবা প্রকাশনীতে নিয়ে গেছি ( মাসিক কিশোর আলোয় ছাপা এক সাক্ষাৎকারে তিনিও স্বেচ্ছায় প্রকাশ করেছেন যে ততদিনে আমার দেড়শর মতো মাসুদ রানা লেখা হয়ে গেছে)। তখন সবকিছু সস্তা ছিল, আমার বোঝাও ছিলো অনেক কম, মাসে গোটা দুয়েক বই লিখতে পারলে দিন বেশ ভালোই চলে যেত। তারপর যখন মাসুদ রানা লেখা শুরু করি, প্রতি বইয়ের জন্যে আমাকে পাঁচশ টাকা দেয়া হত। এটা বাড়তে বাড়তে এক সময় নয়শ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।


এরমধ্যে বনিবনা না হওয়ায় আমি দু’বার সেবা ছেড়ে চলে এসেছি। একবার কাজী সাহেব নিজে আমাদের মিরপুরের বাসায় গিয়ে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আমাকে নিয়ে আসেন, পরের বার সেবার জেনারেল ম্যানেজার কুদ্দুস সাহেবকে পাঠিয়ে ধরে নিয়ে গেছেন। তারপর আগামী প্রকাশনীর ওসগান গণি সাহেব, সালাউদ্দিন বইঘরের সালাউদ্দিন ভাইয়ের মধ্যস্থতায় আমাকে নিয়ে সেবায় মিটিং হয়। কাজী সাহেব কথা দেন এবার থেকে প্রতিটা মাসুদ রানার জন্য আলাদা আলাদা চুক্তি হবে এবং আমি প্রতিটা বইয়ের রিপ্রিন্টের টাকা পাবো।


আমি সেই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলাম একাধিক কারণে। প্রথমত প্রকাশনা ব্যবসার দুই দিকপাল ছিলেন আমাদের চুক্তির (অলিখিত যদিও) সাক্ষী। কাজী সাহেব যে তাঁদেরকেও বোকা বানাবেন এবং আমার প্রাপ্য টাকা শেষ পর্যন্ত মেরে দেওয়ার চেষ্টা করবেন, এমন সম্ভাবনার কথা কখনোই আমার মাথায় আসেনি। লেখালেখি ছাড়া অন্য কোনো কাজ জানতাম না (আজও জানি না), এবং সেবায় লিখে যা পেতাম তাতে সংসার মোটামুটি চলে যেত। তাই কত পেলাম হিসেব না করে চোখকান বুজে লিখে যেতে থাকি। টাকার বেশি প্রয়োজন পড়লে পা-ুলিপি জমা দিলে কাজী সাহেব ১০/১২ হাজার করে টাকা দিতেন। তবে সেগুলোর হিসেব এক খাতায় তুলতেন। আর যেগুলো জমা দিয়ে টাকা নিতাম না, সেগুলোর হিসেব উঠত অন্য খাতায়। সেরকম বই অবশ্য কমই আছে। তাই থাকার কথা। কেননা শুরু থেকেই আমি পেশাদার লেখক, এবং সংসারী। এক মাস বা তারও একটু বেশি সময় নিয়ে লিখে পা-ুলিপি জমা দিতাম, এর মধ্যে সংসারের খরচ তো থেমে থাকত না। টাকার প্রয়োজন হতো এবং আমিও লেখা জমা দিয়ে টাকা নিতাম। যদিও সেগুলোর জন্য কাজী সাহেব ১% কম দিতেন। এই কমবেশি নিয়েও বিশেষ মাথা ঘামাইনি কারণ লেখা আমার কাছে কোনো বিষয়ই ছিল না। তাছাড়া দুই প্রকাশকের সামনে ওয়াদা করেছেন কাজী সাহেব, তাই প্রাপ্য নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতাম না। তারপরও একেক সময় হতাশায় ভুগতাম। সুযোগ পেলে সেই চুক্তির কথা কাজী সাহেবকে মনে করিয়ে দিতাম। তিনি কী জবাব দিতেন তা ইফতেখার সাহেব তাঁর ‘দিন যায় কথা থাকে’-তে উল্লেখ করেছেন। আমি সংসারের চাকা চালু রাখার স্বার্থে ঘাড় গুঁজে কাজ করে গিয়েছি আর নিজেকে সান্ত¦না দিয়েছি: কাজী সাহেব ভদ্রলোক। তিনি আমার টাকা মেরে খাবেন না!
দুঃম্বপ্নেও ভাবিনি পুরোনো ওয়াদার কথা মাঝেমধ্যে মনে করিয়ে দিয়ে আমি কাজী সাহেবের তো বটেই, তাঁর বড় ছেলে টিঙ্কুরও চরম বিরাগভাজন এবং অবাঞ্ছিত হয়ে উঠছি। এমনটাও ভাবিনি কাজী সাহেবকে পাওনা টাকার তাগাদা দেয়ার “অপরাধে” সেবা থেকে অপমান-অপদস্থ হয়ে কোনোদিন আমাকে খালি হাতে বেরিয়ে আসতে হবে। অবশেষে ২০০৮ সালে তাই ঘটল। তাদের সবার দুর্ব্যবহার এত প্রকট, এত বীভৎস রূপ নিল যে তা সহ্যের বাইরে চলে গেল। অবশেষে ছেলেমেয়ে নিয়ে না খেয়ে মরব, তবু সেবায় আর ফিরব না, এই প্রতিজ্ঞা করে একদিন বেরিয়ে পড়লাম। তারপর কাজী সাহেব আমাকে ফিরে যাওয়ার জন্য, মাসুদ রানা লেখার জন্য অনুরোধও করেছেন, অথচ আমার প্রাপ্য টাকার কী হবে তা ভুলেও উচ্চারণ করেননি।


২০১০ সালের শুরুতে ইফতেখার সাহেব জানালেন, কাজী সাহেব তার রয়্যালিটির টাকা না দিলে তিনি অ্যাকশনে যাবেন, আপনিও আসুন। আমি প্রথমে কিছুদিন দ্বিধায় ভুগেছি। তারপর এক সময় মনে হলো আমি বসে আছি কেন? কিছু একটা করি না কেন? কেন আমার এত কষ্টের টাকার দাবি অভিমান করে ছেড়ে দিয়ে বসে থাকছি? ও টাকা আমার প্রাপ্য, আমার সন্তানদের প্রাপ্য। তাতে অধিকার আমাদের, কাজী সাহেব আর তাঁর ছেলেমেয়েদের নয়। তার আগে পর্যন্ত কাজী সাহেব আমাকে ত্রৈমাসিক পেমেন্ট হিসেবে ১০ হাজার করে বছর দেড়েক দিয়েছেন ( যে অংকটা কম করেও ১ লাখ হওয়ার কথা ছিল)। পরে ইফতেখার সাহেব কাজী সাহেবের কাছে সরাসরি নিজের পাওনা টাকা দাবি করলেন। তিনি সাড়া না দেয়ায় আমরা দুজন মিলে তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাই। কাজী সাহেব ঘাবড়ে গিয়ে আমাদের উকিলের অফিসে ছুটে গিয়ে বলে এলেন, মামলা করতে হবে না, ওদেরকে বলুন আমি পাওনা টাকা দিয়ে দেব, কত টাকা পাবেন হিসেব দিতে বলুন। আমরা হিসেব দিলাম। অমনি কাজী সাহেব বলে বসলেন আমরা তাঁর নামে কোনো বই বা মাসুদ রানা লিখিনি, সব তিনি লিখেছেন, তাই কোনো টাকা পাওনা হয়নি আমাদের। এর মধ্যে আমার ত্রৈমাসিকও বন্ধ করে দেয়া হলো। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্য জুলাই পর্যন্ত আর ১ টাকাও পাইনি ওখান থেকে।

বছর পাঁচেক আগে আমি পাওনা টাকা চেয়ে কাজী সাহেবকে শেষবার ফোন করেছিলাম। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন ছিলো, ‘কিসের টাকা? আপনি আমার কাছে টাকা পান, এমন কিছু মনে পড়ছে না।’ আমি তাঁকে মনে করিয়ে দিতে চাইলে তিনি বললেন, ‘আমি নিজে এসব নিয়ে আপনার সঙ্গে আলাপ করতে চাই না। সেবা প্রকাশনীর ম্যানেজার মোমিনকে আপনার কাছে পাঠাব, আপনার যা বলার ওকে বলবেন।’
মোমিন আমার বাড়িতে এসে প্রথম যে বাক্যটি উচ্চারণ করলেন, তা ছিলো হুবহু এরকম: ‘কাজী সাহেব প্রথমেই বলতে বলেছেন যে তিনি আপনাকে আগের মতোই ভালোবাসেন। উত্তরে আমি বলেছি, আমার দিক থেকেও তাঁর প্রতি আগের সেই শ্রদ্ধা অম্লান আছে। তিনি আমাকে আরও জানালেন কাজী সাহেব একটা প্রস্তাব পাঠিয়েছেন: আমার লেখা যে-সব বইয়ের রয়্যালিটি আমি এত দিন পেয়ে এসেছি, কিন্তু বিরোধ শুরু হবার পর থেকে পেমেন্ট আটকে দেয়া হয়েছে, সেগুলোর পেমেন্ট আমাকে এককালীন দেয়া হবে, এবং তারপর নিয়মিত যেমন পেতাম তেমনি পেতে থাকব, তবে অংকটা কত হবে তা হিসেব করে বের করতে সময় লাগবে। শুধু তাই নয়, যে-সব মাসুদ রানা তিনি “কিনে নিয়েছেন”, সেগুলোর রয়্যালিটিও আমাকে দেয়া হবে। অর্থাৎ দু’শ ষাটটার মতো মাসুদ রানার। আমি জানতে চাই, তাতে কত আসবে? মোমিন বললেন, প্রতি তিন মাস অন্তর পঁয়তাল্লিশ থেকে পঁয়ষট্টি হাজারের মধ্যে ওঠানামা করবে। আমি মেনে নিই।



তারপর বললেন, আমাদের উকিল সাহেবকে দিয়ে একটা চুক্তিনামা লেখাতে হবে। সেটায় আপনাকে স্বাক্ষর করতে হবে, তারপর টাকা পাবেন। আমি বললাম কোনো সমস্যা নেই, আমি স্বাক্ষর করে দেব। এরপর আমি কপিরাইট অফিসে কাজী সাহেবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছি, সেই কাগজটাও তিনি উকিলের নাম করে নিয়ে গেলেন। তারপর ওদিক থেকে আর কোনো সাড়া নেই।
আমি বারবার ফোন করেছি, কেউ ধরে না। বেশ কদিন পর মোমিন ফোন করলেন, আমার সন্দেহ হলো তাঁর চারপাশে দুই ছেলেকে নিয়ে কাজী আনোয়ার হোসেনও বসে আছেন। ম্যানেজার সাহেব বললেন, ‘কাজী সাহেব বলেছেন আপনার কোনো টাকা পাওনা হয়নি। পরে বললেন, আপনি যে অল্প কয়টা বইয়ের রয়্যালিটি পান, চাইলে তা আমরা উকিলের মাধ্যমে আপনাকে দিতে পারি।
আমার দাবি ছিল ২ কোটি ১২ লাখ টাকা (কমপক্ষে), কাজী সাহেব দিতে চান মোটে আট-দশ লাখ টাকা! স্বভাবতই তা আমি নিতে চাইনি।

প্রশ্ন জাগা খুব স্বাভাবিক, তিনি এত নাটক করে শেষ পর্যন্ত টাকাটা আমাকে দিলেন না কেন? উত্তরটা আমি নিশ্চিত জানি না, তবে অনুমান করতে পারি। ওই অভিযোগপত্রে আমি সঙ্গত কারণেই লিখেছিলাম: ‘কাজী আনোয়ার হোসেন একজন প্রতারক। তিনি আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন...’ সম্ভবত এটা পড়েই তিনি রেগে গিয়ে বলেছেন, আমি তাঁর কাছে কোনো টাকা পাই না। আমার প্রশ্ন হলোÑকি আশা করেছিলেন তিনি? আমি অভিযোগপত্রে বলব: কাজী আনোয়ার হোসেন নির্লোভ দরবেশতুল্য চরিত্রের অধিকারী, তাঁর সততা নিয়ে মহাকাব্য লেখা যায়, তাই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি আমি?

যাই হোক, এখন আমি আবারও আমার পাওনা টাকা পাবার চেষ্টা করছি। সেই সঙ্গে আমার আরেকটা চাওয়া হলো, মৃত্যুর আগে যেন দেখে যেতে পারি কাজী আনোয়ার হোসেন সাহেব তাঁর উপযুক্ত কর্মফল ভোগ করছেন। সে প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। আশা করি বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
সেবা প্রকাশনীর স্বরূপ সেবা প্রকাশনীর স্বরূপ Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১০:৪৫ PM Rating: 5
Blogger দ্বারা পরিচালিত.