Results for প্রবচন

হুমায়ুন আজাদের ১১৬ টি প্রবচন

হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ

অধ্যাপক ডঃ হুমায়ুন আজাদ বাঙলাদেশের অন্যতম প্রথাবিরোধী ও বহুমাত্রিক লেখক, কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক ছিলেন। অধ্যাপক আজাদের জন্ম : ২৮ এপ্রিল ১৯৪৭ সালে বিক্রমপুরের রাড়িখালে এবং মৃত্যু : ১১ই আগষ্ট ২০০৪ সালে জার্মানির মিউনিখে।


——————————————————-



এক



১। মানুষ সিংহের প্রশংসা করে, কিন্তু আসলে গাধাকেই পছন্দ করে।


২। পুঁজিবাদের আল্লার নাম টাকা, মসজিদের নাম ব্যাংক।


৩। সুন্দর মনের থেকে সুন্দর শরীর অনেক আকর্ষনীয়। কিন্তু ভন্ডরা বলেন উলটো কথা।


৪। হিন্দুরা মুর্তিপূজারী; মুসলমানেরা ভাবমুর্তিপূজারী। মুর্তিপূজা নির্বুদ্ধিতা; আর ভাবমুর্তিপূজা ভয়াবহ।


৫। ‘মিনিষ্টার’ শব্দের মূল অর্থ ভৃত্য। বাঙলাদেশের মন্ত্রীদের দেখে শব্দটির মূল অর্থই মনে পড়ে।


৬। আমাদের অঞ্চলে সৌন্দর্য অশ্লীল, অসৌন্দর্য শ্লীল। রুপসীর একটু নগ্ন বাহু দেখে ওরা হৈ চৈ করে, কিন্তু পথে পথে ভিখিরিনির উলঙ্গ দেহ দেখে ওরা একটুও বিচলিত হয় না।


৭। শ্রদ্ধা হচ্ছে শক্তিমান কারো সাহায্যে স্বার্থোদ্ধারের বিনিময়ে পরিশোধিত পারিশ্রমিক।


৮। আগে কারো সাথে পরিচয় হ’লে জানতে ইচ্ছে হতো সে কী পাশ? এখন কারো সাথে দেখা হ’লে জানতে ইচ্ছে হয় সে কী ফেল?


৯। ব্যর্থরাই প্রকৃত মানুষ, সফলেরা শয়তান।


১০। পরমাত্মীয়ের মৃত্যুর শোকের মধ্যেও মানুষ কিছুটা সুখ বোধ করে যে সে নিজে বেঁচে আছে।


১১। জনপ্রিয়তা হচ্ছে নেমে যাওয়ার সিঁড়ি। অনেকেই আজকাল জনপ্রিয়তার পথে নেমে যাচ্ছে।


১২। উন্নতি হচ্ছে ওপরের দিকে পতন। অনেকেরেই আজকাল ওপরের দিকে পতন ঘটছে।


১৩। প্রতিটি দ© গ্রন্থ সভ্যতাকে নতুন আলো দেয়।


১৪। বাঙলার প্রধান ও গৌণ লেখকদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে প্রধানেরা পশ্চিম থেকে প্রচুর ঋণ করেন, আর গৌণরা আবর্তিত হন নিজেদের মৌলিক মূর্খতার মধ্যে।


১৫। মহামতি সলোমনের নাকি তিন শো পত্নী, আর সাত হাজার উপপত্নী ছিলো। আমার মাত্র একটি পত্নী। তবু সলোমনের চরিত্র সম্পর্কে কারো কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু আমার চরিত্র নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।


১৬। বাঙালি যখন সত্য কথা বলে তখন বুঝতে হবে পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে।


১৭। আধুনিক প্রচার মাধ্যমগুলো অসংখ্য শুয়োরবৎসকে মহামানবরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


১৮। অধিকাংশ রূপসীর হাসির শোভা মাংসপেশির কৃতিত্ব, হৃদয়ের কৃতিত্ব নয়।


১৯। পাকিস্তানিদের আমি অবিশ্বাস করি, যখন তারা গোলাপ নিয়ে আসে, তখনও।


২০। আবর্জনাকে রবীন্দ্রনাথ প্রশংসা করলেও আবর্জনাই থাকে।


২১। নিজের নিকৃষ্ট কালে চিরশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গ পাওয়ার জন্য রয়েছে বই; আর সমকালের নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গ পাওয়ার জন্যে রয়েছে টেলিভিশন ও সংবাদপত্র।


২২। শৃঙ্খলপ্রিয় সিংহের থেকে স্বাধীন গাধা উত্তম।


২৩। প্রাক্তন বিদ্রোহীদের কবরে যখন স্মৃতিসৌধ মাথা তোলে, নতুন বিদ্রোহীরা তখন কারাগারে ঢোকে, ফাসিঁকাঠে ঝোলে।


২৪। একনায়কেরা এখন গণতন্ত্রের স্তব করে, পুজিঁপতিরা ব্যস্ত থাকে সমাজতন্ত্রের প্রশংসায়।


২৫। পুরস্কার অনেকটা প্রেমের মতো; দু-একবার পাওয়া খুবই দরকার, এর বেশি পাওয়া লাম্পট্য।


২৬। বেতন বাঙলাদেশে এক রাষ্ট্রীয় প্রতারণা। এক মাস খাটিয়ে এখানে পাঁচ দিনের পারিশ্রমিক দেয়া হয়।


২৭। কবিরা বাঙলায় বস্তিতে থাকে, সিনেমার সুদর্শন গর্দভেরা থাকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রাসাদে।


২৮। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপজ্জনক।


২৯। বুদ্ধিজীবীরা এখন বিভক্ত তিন গোত্রে। ভন্ড, ভন্ডতর, ভন্ডতম।


৩০। শিক্ষকের জীবনের থেকে চোর, চোরাচালানি, দারোগার জীবন অনেক আকর্ষণীয়। এ সমাজ শিক্ষক চায় না, চোর-চোরাচালানি-দারোগা চায়।


৩১। শয়তানের প্রার্থনায় বৃষ্টি নামে না, ঝড় আসে; তাতে অসংখ্য সৎ মানুষের মৃত্যু ঘটে।


৩২। যে বুদ্ধিজীবী নিজের সময় ও সমাজ নিয়ে সন্তুষ্ট, সে গৃহপালিত পশু।


৩৩। পা, বাঙলাদেশে, মাথার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পদোন্নতির জন্যে এখানে সবাই ব্যগ্র। কিন্তু মাথার যে অবনতি ঘটছে, তাতে কারো কোনো উদ্বেগ নেই।


৩৪। এখানকার একাডেমিগুলো সব ক্লান্ত গর্দভ; মুলো খাওয়া ছাড়া ওগুলোর পক্ষে আর কিছু অসম্ভব।


৩৫। জন্মাতরবাদ ভারতীয় উপমহাদেশের অবধারিত দর্শন। এ অঞ্চলে এক জন্মে পরীক্ষা দিতে হয়, আরেক জন্মে ফল বেরোয়, দু-জন্ম বেকার থাকতে হয়, এবং ভাগ্য প্রসন্ন হ’লে কোন এক জন্মে চাকুরি মিলতেও পারে।


৩৬। রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দরকার ছিলো না, কিন্তু দরকার ছিলো বাঙলা সাহিত্যের। পুরস্কার না পেলে হিন্দুরা বুঝতো না যে রবীন্দ্রনাথ বড়ো কবি; আর মুসলমানেরা রহিম, করিমকে দাবি করতো বাঙলার শ্রেষ্ঠ কবি হিশেবে।


৩৭। বাঙলাদেশে কয়েকটি নতুন শাস্ত্রের উদ্ভব ঘটেছে; এগুলো হচ্ছে স্তুতিবিজ্ঞান, স্তব সাহিত্য, সুবিধা দর্শন ও নমস্কারতত্ত্ব।


৩৮। এখানে অসতেরা জনপ্রিয়, সৎ মানুষেরা আক্রান্ত।


৩৯। টেলিভিশন, নিকৃষ্ট জিনিশের একনম্বর পৃষ্ঠপোষক, হিরোইন প্যাথেডিনের থেকেও মারাত্মক। মাদক গোপনে নষ্ট করে কিছু মানুষকে, টেলিভিশন প্রকাশ্যে নষ্ট করে কোটি কোটি মানুষকে।


৪০। পৌরানিক পুরুষেরা সামান্য অভিজ্ঞতা ভিত্তি ক‘রে অসামান্য সব সিদ্ধান্ত নিতেন। যযাতি পুত্রের কাছে থেকে যৌবন ধার ক’রে মাত্র এক সহস্র বছর সম্ভোগের পর সিদ্ধান্েত পৌছেন যে সম্ভোগে কখনো তৃপ্তি আসে না! এতো বড়ো একটি সিদ্ধান্েতর জন্যে সহস্র বছর খুবই কম সময় : আজকাল কেউ এতো কম অভিজ্ঞতায় এতো বড়ো একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার সাহস করবে না।


৪১। অভিনেতারা সব সময়ই অভিনেতা; তারা যখন বিপ্লব করে তখন তারা বিপ্লবের অভিনয় করে। এটা সবাই বোঝে, শুধু তারা বোঝে না।


৪২। বাঙলাদেশের প্রধান মূর্খদের চেনার সহজ উপায় টেলিভিশনে কোনো আলোচনা-অনুষ্ঠান দেখা। ওই মূর্খমন্ডলিতে উপস্থাপকটি হচ্ছেন মূর্খশিরোমণি।


৪৩। পৃথিবী জুড়ে প্রতিটি নরনারী এখন মনে ক’রে তাদের জীবন ব্যর্থ; কেননা তারা অভিনেতা বা অভিনেত্রী হতে পারে নি।


৪৪। মৌলিকতা হচ্ছে মঞ্চ থেকে দূরে অবস্থান।


৪৫। এরশাদের প্রধান অপরাধ পরিবেশদূষন : অন্যান্য সরকারগুলো পুরুষদের দূষিত করেছে, এরশাদ দূষিত করেছে নারীদেরও।


৪৬। বাঙালি একশো ভাগ সৎ হবে, এমন আশা করা অন্যায়। পঞ্চাশ ভাগ সৎ হ’লেই বাঙালিকে পুরস্কার দেয়া উচিত।


৪৭। একজন চাষী বা নদীর মাঝি সাংস্কৃতিকভাবে যতোটা মূল্যবান, সারা সচিবালয় ও মন্ত্রীপরিষদও ততোটা মূল্যবান নয়।


৪৮। মানুষ ও কবিতা অবিচ্ছেদ্য। মানুষ থাকলে বুঝতে হবে কবিতা আছে : কবিতা থাকলে বুঝতে হবে মানুষ আছে।


৪৯। বাঙালি আন্দোলন করে, সাধারণত ব্যর্থ হয়, কখনোকখনো সফল হয়; এবং সফল হওয়ার পর মনে থাকে না কেনো তারা আন্দোলন করেছিলো।


৫০। এখন পিতামাতারা গৌরব বোধ করেন যে তাঁদের পুত্রটি গুন্ডা। বাসায় একটি নিজস্ব গুন্ডা থাকায় প্রতিবেশীরা তাঁদের সালাম দেয়, মুদিদোকানদার খুশি হয়ে বাকি দেয়, বাসার মেয়েরা নির্ভয়ে একলা পথে বেরোতে পারে, এবং বাসায় একটি মন্ত্রী পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।





দুই

১। এদেশের মুসলমান এক সময় মুসলমান বাঙালি, তারপর বাঙালি মুসলামান, তারপর বাঙালি হয়েছিলো; এখন আবার তারা বাঙালি থেকে বাঙালি মুসলমান, বাঙালি মুসলমান থেকে মুসলমান বাঙালি, এবং মুসলমান বাঙালি থেকে মুসলমান হচ্ছে। পৌত্রের ঔরষে জন্ম নিচ্ছে পিতামহ।


২। নিন্দুকেরা পুরোপুরি অসৎ হ’তে পারেন না, কিছুটা সততা তাঁদের পেশার জন্যে অপরিহার্য; কিন্তু প্রশংসাকারীদের পেশার জন্য মিথ্যাচারই যথেষ্ট।


৩। বাস্তব কাজ অনেক সহজ অবাস্তব কাজের থেকে ; আট ঘন্টা একটানা শ্রম গাধাও করতে পারে, কিন্তু একটানা এক ঘন্টা স্বপ্ন দেখা রবীন্দ্রনাথের পক্ষেও অসম্ভব।


৪। প্রতিটি সার্থক প্রেমের কবিতা বলতে বোঝায় যে কবি প্রেমিকাকে পায় নি, প্রতিটি ব্যর্থ প্রেমের কবিতা বোঝায় যে কবি প্রেমিকাকে বিয়ে করেছে।


৫। তৃতীয় বিশ্বের নেতা হওয়ার জন্যে দুটি জিনিশ দরকার : বন্দুক ও কবর।


৬। প্রতিটি বিজ্ঞাপনে পণ্যটির থেকে পণ্যাটি অনেক লোভনীয়; তাই ব্যর্থ হচ্ছে বিজ্ঞাপনগুলো। দর্শকেরা পণ্যের থেকে পণ্যাটিকেই কিনতে ও ব্যবহার করতে অধিক আগ্রহ বোধ করে।


৭। কোন দেশের লাঙলের রূপ দেখেই বোঝা যায় ওই দেশের মেয়েরা কেমন নাচে, কবিরা কেমন কবিতা লেখেন, বিজ্ঞানীরা কি আবিষ্কার করেন, আর রাজনীতিকেরা কতোটা চুরি করে।


৮। যারা ধর্মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়, তারা ধার্মিকও নয়, বিজ্ঞানীও নয়। শুরুতেই স্বর্গ থেকে যাকে বিতারিত করা হয়েছিলো, তারা তার বংশধর।


৯। যতোদিন মানুষ অসৎ থাকে, ততোদিন তার কোনো শত্রু থাকে না; কিন্তু যেই সে সৎ হয়ে উঠে, তার শত্রুর অভাব থাকে না।


১০। এদেশে সবাই শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক : দারোগার শোকসংবাদেও লেখা হয়, ‘তিনি শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক ছিলেন’।


১১। শিল্পকলা হচ্ছে নিরর্থক জীবনকে অর্থপূর্ণ করার ব্যর্থ প্রয়াস।


১২। কিছু বিশেষন ও বিশেষ্য পরস্পরসম্পর্কিত; বিশেষ্যটি এলে বিশেষন আসে, বিশেষন এলে বিশেষ্য আসে। তারপর একসময় একটি ব্যবহার করলেই অন্যটি বোঝায়, দুটি একসাথে ব্যবহার করতে হয় না। যেমন : ভন্ড বললেই পীর আসে, আবার পীর বলতেই ভন্ড আসে। এখন আর ‘ভন্ড পীর’ বলতে হয় না; ‘পীর’ বললেই ‘ ভন্ড পীর ’ বোঝায়।


১৩। ভক্ত শব্দের অর্থ খাদ্য। প্রতিটি ভক্ত তার গুরুর খাদ্য। তাই ভক্তরা দিনদিন জীর্ণ থেকে জীর্ণতর হয়ে আবর্জনায় পরিণত হয়।


১৪। মূর্তি ভাঙতে লাগে মেরুদন্ড, মূর্তিপূজা করতে লাগে মেরুদন্ডহীনতা।


১৫। আমাদের সমাজ যাকে কোনো মূল্য দেয় না, প্রকাশ্যে তার অকুণ্ঠ প্রশংসা করে, আর যাকে মূল্য দেয় প্রকাশ্যে তার নিন্দা করে। শিক্ষকের কোনো মূল্য নেই, তাই তার প্রশংসায় সমাজ পঞ্চমুখ; চোর, দারোগা, কালোবাজারি সমাজে অত্যন্ত মুল্যবান, তাই প্রকাশ্যে সবাই তাদের নিন্দা করে।


১৬। সৌন্দর্য রাজনীতির থেকে সব সময়ই উৎকৃষ্ট।


১৭। ক্ষুধা ও সৌন্দর্যবোধের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যে-সব দেশে অধিকাংশ মানুষ অনাহারী, সেখানে মাংসল হওয়া রূপসীর লক্ষণ; যে-সব দেশে প্রচুর খাদ্য আছে, সেখানে মেদহীন হওয়া রূপসীর লক্ষণ। এজন্যেই হিন্দি আর বাঙলা ফিল্মের নায়িকাদের দেহ থেকে মাংস চর্বি উপচে পড়ে। ক্ষুধার্ত দর্শকেরা সিনামা দেখে না, মাংস ও চর্বি দেখে ক্ষুধা নিবৃত্ত করে।


১৮। বাঞ্ছিতদের সাথে সময় কাটাতে চাইলে বই খুলুন, অবাঞ্ছিতদের সাথে সময় কাটাতে চাইলে টেলিভিশন খুলুন।


১৯। স্তবস্তুতি মানুষকে নষ্ট করে। একটি শিশুকে বেশি স্তুতি করুন, সে কয়েকদিনে পাক্কা শয়তান হয়ে উঠবে। একটি নেতাকে স্তুতি করুন, কয়েকদিনের মধ্যে দেশকে সে একটি একনায়ক উপহার দেবে।


২০। ধনীরা যে মানুষ হয় না, তার কারণ ওরা কখনো নিজের অন্তরে যায় না। দুঃখ পেলে ওরা ব্যাংকক যায়, আনন্দে ওরা আমেরিকা যায়। কখনো ওরা নিজের অন্তরে যাতে পারে না, কেননা অন্তরে কোনো বিমান যায় না।


২১। রাজনীতি ও সংস্কৃতি সম্পুর্ণ বিপরীত বস্তু ; একটি ব্যাধি অপরটি স্বাস্থ্য।


২২। আগে প্রতিভাবানেরা বিদেশ যেতো; এখন প্রতিভাবানেরা নিয়মিত বিদেশ যায়।


২৩। বিশ্বের নারী নেতারা নারীদের প্রতিনিধি নয় ; তারা সবাই রুগ্ন পিতৃতন্ত্রের প্রিয় সেবাদাসী।


২৪। কোন বাঙালি আজ পর্যন্ত আত্মজীবনী লেখে নি, কেননা আত্মজীবনী লেখার জন্যে দরকার সততা। বাঙালির আত্মজীবনী হচ্ছে শয়তানের লেখা ফেরেশতার আত্মজীবনী।


২৫। কারো প্রতি শ্রদ্ধা অটুট রাখার উপায় হচ্ছে তার সাথে কখনো সাক্ষাৎ না করা।


২৬। মানুষের তুলনায় আর সবই ক্ষুদ্র : আকাশ তার পায়ের নিচে, চাঁদ তার এক পদক্ষেপের দূরত্বে, মহাজগত তার নিজের বাড়ি।


২৭। পুরুষ তার পুরুষ বিধাতার হাতে লিখিয়ে নিয়েছে নিজের রচনা; বিধাতা হয়ে উঠেছে পুরুষের প্রস্তুত বিধানের শ্রুতিলিপিকর।


২৮। হিন্দু বিধানে পুরুষ দ্বারা দূষিত না হওয়া পর্যন্ত নারী পরিশুদ্ধ হয় না!


২৯। সব ধরনের অভিনয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে রাজনীতি; রাজনীতিকেরা অভিনয় করে সবচেয়ে বড় মঞ্চে ও পর্দায়।


৩০। উচ্চপদে না বসলে এদেশে কেউ মূল্য পায় না। সক্রেটিস এদেশে জন্ম নিলে তাঁকে কোনো একাডেমির মহাপরিচালক পদের জন্যে তদ্বির চালাতে হতো।


৩১। সক্রেটিস বলেছেন তিনি দশ সহস্র গর্দভ দ্বারা পরিবৃত। এখন থাকলে তিনি ওই সংখ্যার ডানে কটি শূন্য যোগ করতেন?


৩২। বাঙালি মুসলমান জীবিত প্রতিভাকে লাশে পরিনত করে, আর মৃত প্রতিভার কবরে আগরবাতি জ্বালে।


৩৩। নজরুলসাহিত্যের আলোচকেরা সমালোচক নন, তাঁরা নজরুলের মাজারের খাদেম।


৩৪। ভ্রষ্ট বাঙালিকে ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ উপায় তার গালে শক্ত ক’রে একটি চড় কষিয়ে দেয়া।


৩৫। বাঙালির জাতিগত আলস্য ধরা পড়ে ভাষায়। বাঙালি ‘দেরি করে’, ‘চুরি করে’, এমনকি ‘বিশ্রাম করে’। বিশ্রাম ও বাঙালির কাছে কাজ।


৩৬। বাঙালি অভদ্র, তার পরিচয় রয়েছে বাঙালির ভাষায়। কেউ এলে বাঙালি জিজ্ঞেস করে, ‘কি চাই?’ বাঙালির কাছে আগন্তুক মাত্রই ভিক্ষুক। অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে বাঙালি বলে, ‘দাঁড়ান’। বসতে বলার সৌজন্যটুকুও বাঙালির নেই।


৩৭। মানুষ মরণশীল, বাঙালি অপমরণশীল।


৩৮। গণশৌচাগার দেখলেই কেনো যেনো আমার বাঙালির আত্মাটির কথা বারবার মনে পড়ে।


৩৯। বিনয়ীরা সুবিধাবাদী, সুবিধাবাদীরা বিনয়ী।


৪০। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম প্রেম বলে কিছু নেই। মানুষ যখন প্রেমে পড়ে, তখন প্রতিটি প্রেমই প্রথম প্রেম।


৪১। মার্ক্সবাদের কথা শুনলে এখন মোল্লারা ক্ষেপে না, সমাজতন্ত্রের কথা তারা সন্েতাষের সাথেই শোনে; কিন্তু শরীরের কথা শুনলে লম্পটরাও ধর্মযুদ্ধে নামে।


৪২। এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো।


৪৩। খুব ভেবে চিনতে মানুষ আত্মসমর্পন করে, আর অনুপ্রাণিত মুহুর্তে ঘোষনা করা স্বাধীনতা।


৪৪। মানুষ যখন তার শ্রেষ্ঠ স্বপ্নটি দেখে তখনি সে বাস করে তার শ্রেষ্ঠ সময়ে।


৪৫। এ ব-দ্বীপে দালালি ছাড়া ফুল ফোটে না, মেঘও নামে না।


৪৬। আমার লেখার যে অংশ পাঠককে তৃপ্তি দেয়, সেটুকু বর্তমানের জন্যে; আর যে অংশ তাদের ক্ষুব্দ করে সেটুকু ভবিষ্যতের জন্য।


৪৭। বাঙলার বিবেক খুবই সন্দেহজনক। বাঙলার চুয়াত্তরের বিবেক সাতাত্তরে পরিনত হয় সামরিক একনায়কের সেবাদাসে।


৪৮। বাঙলাদেশ অমরদের দেশ। এ-দেশের প্রতি বর্গমিটার মাটির নিচে পাঁচজন ক’রে অমর ঘুমিয়ে আছেন।


৪৯। পাকিস্থানের ইতিহাস ঘাতক আর শহীদদের ইতিহাস। বাঙলাদেশের ইতিহাস শহীদ আর ঘাতকদের ইতিহাস।


৫০। একবার রাজাকার মানে চিরকাল রাজাকার; কিন্তু একবার মুক্তিযোদ্ধা মানে চিরকাল মুক্তিযোদ্ধা নয়।


৫১। বাঙলার প্রতিটি ক্ষমতাদখলকারী দল সংখ্যাগরিষ্ঠ দুর্বৃত্তের সংঘ।


৫২। পৃথিবীতে একটি মাত্র দক্ষিনপন্থী সাম্যবাদী দল রয়েছে। সেটি আছে বাঙলাদেশে।


৫৩। আমাদের প্রায়-প্রতিটি মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিকের ভেতরে একটি ক’রে মৌলবাদী বাস করে। তারা পান করাকে পাপ মনে করে, প্রেমকে গুনাহ মনে করে, কিন্তু চারখান বিবাহকে আপত্তিকর মনে করে না।


৫৪। কবিতা এখন দু-রকম; দালালি, ও গালাগালি।


৫৫। বাঙলাদেশের সাহিত্যে আধুনিকতাপর্বের পর কি আসবে আধুনিকতা-উত্তর-পর্ব? না। আসতে দেখছি গ্রাম্যতার পর্ব।


৫৬। পৃথিবী জুড়ে সমাজতন্ত্রের সাম্প্রতিক দুরবস্থার সম্ভবত গভীর ফ্রয়েডীয় কারণ আছে। সমাজতন্ত্রের মার্ক্সীয়, লেলিনীয়, স্তালিনীয় আবেদন ছিলো, কিন্তু যৌনাবেদন ছিলো না।


৫৭। স্বার্থ সিংহকে খচ্চরে আর বিপ্লবীকে ক্লীবে পরিনত করে।


৫৮। অপন্যাস হচ্ছে সে-ধরনের সাহিত্য, যা বছরে লাখ টন উৎপাদিত হ’লেও সাহিত্যের কোনো উপকার হয় না; আর আধ কেজি উৎপাদিত না হ’লেও কোনো ক্ষতি হয় না।


৫৯। সৎ মানুষ মাত্রই নিঃসঙ্গ, আর সকলের আক্রমনের লক্ষ বস্তু।


৬০। মধ্যবিত্ত পতিতাদের নিয়ে সমস্যা হচ্ছে তারা পতিতাদের সুখ ও সতীর পূন্য দুটিই দাবি করে।


৬১। বিপ্লবীদের বেশি দিন বাঁচা ঠিক নয়। বেশি বাঁচলেই তারা প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠে।


৬২। পুঁজিবাদী পর্বের সবচেয়ে বড়ো ও জনপ্রিয় কুসংস্কারের নাম প্রেম।


৬৩। জীবনের সারকথা কবর।


৬৪। শাড়ি প’রে শুধু শুয়ে থাকা যায়; এজন্যে বাঙালি নারীদের হাঁটা হচ্ছে চলমান শোয়া।


৬৫। শ্বাশত প্রেম একজনের শরীরে ঢুকে আরেকজনের স্বপ্ন দেখা।


৬৬। প্রেম হচ্ছে নিরন্তর অনিশ্চয়তা; বিয়ে ও সংসার হচ্ছে চূড়ান্ত নিশ্চিন্তির মধ্যে আহার, নিদ্রা, সঙ্গম, সন্তান, ও শয়তানি।


৬৭। ইতিহাস হচ্ছে বিজয়ীর হাতে লেখা বিজিতের নামে এক রাশ কুৎসা।


৬৮। পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতার শ্রেষ্ঠ শহীদের নাম মা।


৬৯। গত দু-শো বছরে গবাদিপশুর অবস্থার যতোটা উন্নতি ঘটেছে নারীর অবস্থার ততোটা উন্নতি ঘটে নি।


৭০। টাকাই অধিকাংশ মানুষের একমাত্র ইন্দ্রিয়।


৭১। মৃত সিংহের থেকে জীবিত গাধাও কতো জোতির্ময় উজ্জ্বল।


৭২। মানুষ মরলে লাশ হয়, সংস্কৃতি মরলে প্রথা হয়।


৭৩। আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।


৭৪। পৃথিবীর প্রধান বিশ্বাসগুলো অপবিশ্বাস মাত্র। বিশ্বাসীরা অপবিশ্বাসী।


৭৫। ঐতিহ্য বলতে এখানে লাশকেই বোঝায়। তবে লাশ জীবনকে কিছুই দিতে পারে না।


৭৬। গাধা একশো বছর বাঁচলেও সিংহ হয় না।


৭৭। আমি ঈর্ষা করি শুধু তাদের যারা আজো জন্মে নি।


৭৮। সতীচ্ছদ আরব পুরুষদের জাতীয় পতাকা।


৭৯। সবচেয়ে হাস্যকর কথা হচ্ছে একদিন আমরা কেউ থাকব না।


৮০। পাপ কোনো অন্যায় নয়, অপরাধ অন্যায়। পাপ ব্যক্তিগত, তাতে সমাজের বা অন্যের, এমনকি পাপীর নিজেরও কোনো ক্ষতি হয় না; কিন্তু অপরাধ সামাজিক, তাতে উপকার হয় অপরাধীর, আর ক্ষতি হয় অন্যের বা সমাজের।


৮১। ক্ষমতায় থাকার সময় যারা সত্য প্রকাশ করতে দেয় না, ক্ষমতা হারানোর পর তারা অজ্রস্য মিথ্যার প্রকাশ রোধ করতে দেয় না।


৮২। শিশু, সবুজ, তরুনীরা আছে ব’লে বেঁচে থাকা আজো আমার কাছে আপত্তিকর হয়ে উঠে নি।


৮৩। পশু আর পাখিরাই মানবিক।


৮৪। ক্ষমতায় যাওয়ার একটিই উপায়; সমস্যা সৃষ্টি করা। সমস্যা সমাধান ক’রে কেউ ক্ষমতায় যায় না, যায় সৃষ্টি করে।


৮৫। পৃথিবীতে রাজনীতি থাকবেই। নইলে ওই অপদার্থ অসৎ লোভী দুষ্ট লোকগুলো কি করবে?


৮৬। ঋষি রবীন্দ্রনাথের ছবি দেখলে বাল্যকাল থেকেই তাঁর জন্মাব্দ ১৮৬১র আগে দুটি বর্ণ যোগ করতে ইচ্ছে হয়। বর্ণ দুটি হচ্ছে খ্রিপূ।


৮৭। এখানে সাংবাদিকতা হচ্ছে নিউজপ্রিন্ট-বলপয়েন্ট-মিথ্যার পাচঁন।


৮৮। ফুলের জীবন বড়োই করুণ। অধিকাংশ ফুল অগোচরেই ঝ’রে যায়, আর বাকিগুলো ঝোলে শয়তানের গলায়।


৮৯। টেলিভিশনে জাহাজমার্কা আলকাতরার বিজ্ঞাপনটি আকর্ষনীয়, তাৎপর্যপূর্ণ; তবে অসম্পুর্ন। বিজ্ঞাপনটিতে জালে, জাহাজে, টিনের চালে আলকাতরা লাগানোর উপকারিতার কথা বলা হয়; কিন্তু বলা উচিত ছিলো যে জাহাজ মার্কা আলকাতরা লাগানোর উৎকৃষ্টতম স্থান হচ্ছে টেলিভিশনের পর্দা।, বিশেষ ক’রে যখন বাঙলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখা যায়।


৯০। আমাদের অধিকাংশের চরিত্র এতো নির্মল যে তার নিরপেক্ষ বর্ণনা দিলেও মনে হয় অশ্লীল গালাগাল করা হচ্ছে।


৯১। মোল্লারা পবিত্র ধর্মকেই নষ্ট ক’রে ফেলেছে; ওরা হাতে রাষ্ট্র পেলে তাকে জাহান্নাম ক’রে তুলবে ।


৯২। বিধাতা মৌলবাদী নয়। কে প্রার্থনা করলো, কে করলো না; কে কোন তরুনীর গ্রীবার দিকে তাকালো, কোন রূপসী তার রূপের কতো অংশ দেখালো, এসব তাকে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন করে না। কিন্তু বিধাতার পক্ষে এতে ভীষন উদ্বিগ্ন বোধ করে ভন্ডরা।


৯৩। মসজিদ ভাঙে ধার্মিকেরা, মন্দির ভাঙে ধার্মিকেরা, তারপরও তারা দাবি করে তারা ধার্মিক, আর যারা ভাঙাভাঙিতে নেই তারা অধার্মিক বা নাস্তিক।


৯৪। মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায় আসে না; যায় আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।


৯৫। মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি। কিন্তু ওরা তাকে চালায় ধর্মের নামে।


৯৬। মসজিদ ও মন্দির ভাঙার সময় একটি সত্য দীপ্ত হয়ে উঠে যে আল্লা ও ভগবান কতো নিõিয়, কতো অনুপস্থিত।


৯৭। ধার্মিক কখনোই সম্পুর্ন মানুষ নয়, অনেক সময় মানুষই নয়।


৯৮। ধর্মের কাজ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা; তাই এক ধার্মিকের রক্তে সব সময়ই গোপনে শানানো হ’তে থাকে অন্য ধার্মিককে জবাই করার ছুরিকা।


৯৯। একটি ধর্মান্ধের মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় আল্লা অমন লোককে পছন্দ করতে পারে না।


১০০। মৌলবাদ হচ্ছে আল্লার নামে শয়তানবাদ।


১০১। শয়তানই আজকাল আল্লা আর ঈশ্বরের নাম নিচ্ছে প্রাণ ভ’রে। আদিম শয়তান আর যাই হোক রাজনীতিবিদ ছিলো না, কিন্তু শয়তান এখন রাজনীতি শিখেছে; আল্লা আর ঈশ্বর আর জেসাসের নামে দিনরাত শ্লোগান দিচ্ছে।


১০২। মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে দুটি তত্ত্ব রয়েছে : অবৈজ্ঞানিকটি অধঃপতনতত্ত্ব, বৈজ্ঞানিকটি বিবর্তনতত্ত্ব। অধঃপতনতত্ত্বের সার কথা মানুষ স্বর্গ থেকে অধঃপতিত। বিবর্তনতত্ত্বের সারকথা মানুষ বিবির্তনের উৎকর্ষের ফল। অধঃপতনবাদীরা অধঃপতনতত্ত্বে বিশ্বাস করে; আমি যেহেতু মানুষের উৎকর্ষে বিশ্বাস করি, তাই বিশ্বাস করি বিবর্তনতত্ত্বে। অধঃপতন থেকে উৎকর্ষ সব সময়ই উৎকৃষ্ট।


১০৩। মসলামানের মুক্তি ঘটে নি, কারণ তারা অতীত ও তাদের মহাপুরুষদের সম্পর্কে কোনো সত্যনিষ্ঠ আলোচনা করতে দেয় না।


১০৪। ভাবাদর্শগত জীবন হচ্ছে বন্দি জীবন। মানুষ জীবন যাপনের জন্যে জন্মেছে, ভাবাদর্শ যাপনের জন্যে জন্মে নি।


১০৫। গান্ধি দাবি করেন যে তিনি একই সাথে হিন্দু, খ্রিষ্টান, মুসলমান, বৌদ্ধ, ইহুদি, কনফুসীয় ইত্যাদি। একে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা মহৎ ব্যাপার ব’লে মনে করেছেন। কিন্তু এটা প্রতারণা, ও ভয়ঙ্কর ব্যাপার,-তিনি নিজেকে ক’রে তুলেছেন সব ধরনের খারাপের সমষ্টি। এমন প্রতারণা থেকেই উৎপত্তি হয়েছে বাবরি মসজিদ উপাখ্যানের। তিনি যদি বলতেন, আমি হিন্দু নই, মুসলমান নই, বৌদ্ধ নই, ইহুদি নই, কনফুসীয় নই; আমি মানুষ, তাহলে বাবরি মসজিদ উপখ্যানের সম্ভাবনা অনেক কমতো।


১০৬। ভারতীয় সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের আধুনিক উৎস মোহনচাঁদ করমচাঁদ গান্ধী।


১০৭। একটি আমলা আর মন্ত্রীর সাথে পাঁচ মিনিট কাটানোর পর জীবনের প্রতি ঘেন্না ধ’রে গেলো; তারপর একটি চড়ুইয়ের সাথে দু-মুহুর্ত কাটিয়ে জীবনকে আবার ভালবাসলাম।


১০৮। শরীরই শ্রেষ্ঠতম সুখের আকর। গোলাপের পাপড়ির উপর লক্ষ বছর শুয়ে থেকে, মধুরতম দ্রাক্ষার সুরা কোটি বছর পান ক’রে, শ্রেষ্ঠতম সঙ্গীত সহস্র বছর উপভোগ ক’রে যতোখানি সুখ পাওয়া যায়, তার চেয়ে অর্বুদগুন বেশি সুখ মেলে কয়েক মুহুর্ত শরীর মন্থন ক’রে।


১০৯। বিভূতিভূষনের পথের পাঁচালীর পাশে সত্যজিতের চলচিত্রটি খুবই শোচনীয় বস্তু, ওটি তৈরি না হ’লেও ক্ষতি ছিলো না; কিন্তু বিভূতিভূষন যদি পথের পাঁচালী না লিখতেন, তাহলে ক্ষতি হতো সভ্যতার।


১১০। সত্যজিত যদি ভারতরত্ন হন, তবে বিভূতিভূষন বিশ্বরত্ন, সভ্যতারত্ন; কিন্তু অসভ্য প্রচারের যুগে মহৎ বিভূতিভূষণকে পৃথিবী কেনো ভারত চেনে না, চেনে গৌণ সত্যজিৎকে।


১১১। কোন কালে এক কদর্য কাছিম দৌড়ে হারিয়েছিলো এক খরগোশকে, সে গল্পে কয়েক হাজার ধ’রে মানুষ মুখর। তারপর খরগোশ কতো সহস্রবার হারিয়েছে কাছিমকে, সে-কথা কেউ বলে না।


১১২। সত্য একবার বলতে হয়; সত্য বারবার বললে মিথ্যার মতো শোনায়। মিথ্যা বারবার বলতে হয়; মিথ্যা বারবার বললে সত্য ব’লে মনে হয়।


১১৩। শোনা যায় পুরোনো কালে ঘটতো নানা অলৌকিক ঘটনা, তবে পুরোনো কালের অলৌকিক ঘটনাগুলো বানানো বা ভোজবাজি। প্রকৃত অলৌকিক ঘটনার কাল হচ্ছে বিশশতক। পুরোনো কালের কোনো মোজেজ লাঠিকে সাপ বানাতে, বা সমুদ্রের উপর সড়ক তৈরি করতে পারতেন-ক্ষণিকের জন্যে। ওগুলো নিম্নমানের যাদু। সত্য স্থায়ী অলৌকিকতা সৃষ্টি করতে পেরেছে শুধু বিশশতকের বিজ্ঞান। বিদুৎ, বিমান, টেলিভিশন, কম্পিউটার, নভোযান, এমনকি সামান্য শেলাইকলটিও অতীতের যে কোন অলৌকিক ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি অলৌকিক। বিজ্ঞান অলৌকিকতাকে সত্যে পরিণত করেছে ব’লে গাধাও তাতে বিষ্মিত হয় না, কিন্তু পুরোনো তুচ্ছ অলৌকিকতার কথায় সবাই বিহ্বল হয়ে উঠে।


১১৪। পুরোনো কালের মানুষ যদি দৈবাৎ একটি টেলিভিশনের সামনে এসে পড়তো, তাহলে তাকে দেবতা মনে ক’রে পুজো করতো। আজো সেই পুজো চলতো।


১১৫। আজকালকার আধিকাংশ পি এইচ ডি অভিসন্দর্ভই আশার আলো জ্বালায়; মনে হয় এখানেই নিহিত আমাদের শিক্ষাসমস্যা সমাধানের বীজ। প্রথম বর্ষ অনার্স শ্রেনীতেই এখন পি এইচ ডি কোর্স চালু করা সম্ভব, এতে ছাত্ররা আড়াই বছরে একটি ডক্টরেট ডিগ্রি পেতে পারে। এখানকার অধিকাংশ ডক্টরেটই øাতক পূর্ব ডক্টরেট; অদূর ভবিষ্যতে উচ্চমাধ্যমিক ডক্টরেটও পাওয়া যাবে।


১১৬। পৃথিবীতে যতোদিন অন্তত একজনও প্রথাবিরোধী মানুষ থাকবে, ততোদিন পৃথিবী মানুষের।

——————————————————————————-
হুমায়ুন আজাদের ১১৬ টি প্রবচন হুমায়ুন আজাদের ১১৬ টি প্রবচন Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১০:২২ PM Rating: 5

সজল আহমেদ এর ৬০টি প্রবচন
















  •  মায়ের দুধে পেট না ভরলে বাপের নুনু চুইলে কাজ হবে?


১) পুরুষ মানুষ সারাজীবনে কয়েকবার মরে যায়। প্রথম প্রেমিকা হারাবার সময়। বিয়ে হবার পর আর বুড়ো হয়ে স্ত্রী হারাবার সময়।
                     -সজল আহমেদ
২) প্রত্যেকটা পুরুষই প্রেমিক। তবে কেউকেউ প্রেমিক থেকে স্বামী হবার যোগ্যতা রাখেনা।
                     -সজল আহমেদ
৩) প্রেম একতরফা ভাবে যেটা হয়, বিচ্ছেদ হলেও ওটাই প্রকৃত প্রেম।
                     -সজল আহমেদ
৪) স্ত্রীর কাছে স্বামীর একমাত্র চাওয়ার যা তা হলো স্ত্রীর বিশ্বাস যোগ্যতা।
                     -সজল আহমেদ
৫) এমন কোন মানুষ নেই যাঁরা বেশি কাঁদেনা। এমন কোন মানুষ পাবেননা যাঁরা বলবে কাঁদার চেয়ে বেশি হেসেছি। মূলত দুঃখের তীব্রতা বা ওজন হাসির চেয়ে কোটিকোটি গুণ উপরে। তাই জীবনের দুঃখকর মূহুর্তের চেয়ে সুখকর মূহুর্ত বেশি হলেও দুঃখ বেশি পেয়েছেন বলেই মনেহয়।
                     -সজল আহমেদ
৬) সকালের সিগারেটটা স্বর্গের সূরার মতো। যেন টানতে টানতে মনেহয় ; স্বর্গে বসে আছি।
                     -সজল আহমেদ
৭)  প্রত্যেকটা মানুষেরই একটা হিডেন দক্ষতা হলো; সে পাগলামি করতে জানে অভিকল পাগলদের মতো।
                     -সজল আহমেদ
৮) আপনি একটা মেয়েকে বা ছেলেকে কখনো বিশ্বাস করবেন না, কারণ বিশ্বাসের চে সবার কাছে গুরুত্ববহ হচ্ছে সৌন্দর্য ও অর্থ।
                     -সজল আহমেদ
৯) ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোন ডেফিনিশন নাই; যার যার ভালোবাসার ডেফিনিশন তাঁর তাঁর কাছে।
                     -সজল আহমেদ
১০) পপুলারিটি হচ্ছে জোয়ার ভাটার মতো।
                     -সজল আহমেদ

১১) প্রকৃত বন্ধুত্ব বলতে আদৌ কিছু নেই; আবেগের পর নুনু ঠেকিয়ে চলে যাওয়ার পর আশ্চর্য হবার কিছু নেই।
                     -সজল আহমেদ

১২) আপনার কোন বন্ধুই অপরিচিত একটা মেয়ের থেকে আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে পারবেনা।
                     -সজল আহমেদ
১৩) ভালোবাসার মোহে পরে আপনি যা করছেন, কোন একদিন মনে পরলে আপনি নিজেই নিজের কাছে লজ্জা পাবেন। 
                     -সজল আহমেদ
১৪) নীতিগত ভাবে প্রত্যেক প্রেমিকাই দুদিনপর প্রেমিককে পুরানো ভাবতে থাকে।
                     -সজল আহমেদ
১৫) প্রত্যেকটা নারী পুরুষই একাধিক সঙ্গী চায় আর এটা ভালোবাসার কমতি থেকে সৃষ্ট।
                     -সজল আহমেদ
১৬) আপনি যদি কাউকে প্রকৃত ভালোবাসেন, প্রথম প্রথম ওঁর প্রতি সেক্স এর সেন্টিমেন্ট আসতেই পারেনা।
                     -সজল আহমেদ
১৭) প্রতিটা খারাপ স্বপ্ন/কল্পনা একেকটা মানুষের আত্মহত্যার জন্য দায়ী!
                     -সজল আহমেদ
১৮) ২১-২২ বছরের সময় মানুষ বেশি আত্মহত্যা প্রবণ হয়।
                     -সজল আহমেদ
১৯) ডিভোর্স হওয়ার পর একটা মেয়ে নিজেকে গড়তে না পারলে ওর পরবর্তী জীবনটা অসুখের হয়।
                     -সজল আহমেদ
২০) ডিভোর্স হওয়ার পর মেয়েরা ভাবে, তাঁর পুরো জীবনটাই বুঝি শেষ! অথচ ওসময়টাই ওর নিজেকে গড়ার সময়।
                     -সজল আহমেদ
২১) স্বামী হতে গেলে আপনার প্রধান গুণ থাকতে হবে, প্রেমিকার মতো ঘন্টায় ঘন্টায় স্ত্রীর কেয়ার করা।
                     -সজল আহমেদ
২২) প্রতিটা মানুষই অনৈতিক।
                     -সজল আহমেদ
২৩) একটা মেয়ে কখনোই অল্পতে নিজের ডিভোর্স হোক চায় না। স্বামীর ফাতরামি এর জন্য সিংহভাগ দায়ী।
                     -সজল আহমেদ
২৪) মেয়েদের যত প্রশংসা ও সম্মান করবেন অত লাইফের গতি হবে।
                     -সজল আহমেদ
২৫) যে বয়োসটা নিজেকে গড়ার ঐ বয়োসটা অধিকাংশ যুবক কাটায় প্রেম ভালোবাসায়।
                     -সজল আহমেদ

২৬) প্রত্যেকটা মানুষই নীতিগত ছোটলোক। 
                     -সজল আহমেদ
২৭) বড়লোকদের একটা সমস্যা হচ্ছে ওরা ভাবে ওদের টাকা কমে যাচ্ছে আর কেউ একজন ওঁর প্রতিদন্দ্বী।
                     -সজল আহমেদ
২৮) কে আপনার জন্য ভাবছে না ভেবে নিজে অন্তত কাউকে নিয়ে ভাবতে শুরু করুন তাহলেই দেখবেন অনেকেই আপনাকে নিয়ে ভাবছে।
                     -সজল আহমেদ
২৯) মেয়েদের মন বুঝতে চাইলে আগে মহাকাশটা জয় করে আসুন।
                     -সজল আহমেদ
৩০) স্বার্থপরিতা বলতে কিছু নাই; মূলত যে অপরকে স্বার্থপর ভাবছে ওর ঐ স্বার্থের অভাব।
                     -সজল আহমেদ
৩১) পথভ্রষ্ট না হলে সঠিক পথটা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর!
                     -সজল আহমেদ
৩২) প্রেমে পরলে বেকুব হওয়াটা স্বাভাবিক। 
                     -সজল আহমেদ
৩৩) ডিপ্রেশন হতে একমাত্র মুক্তির উপায় মরে যাওয়া।
                     -সজল আহমেদ

৩৪) মেয়েদের বিশ্বাস করা ঈশ্বরের কাছেও অসাধ্য ব্যাপার! যদি অসাধ্য না হতো তবে ইভকে সৃষ্টি করার পর বিশ্বাস করে নিষিদ্ধ ফল এর গাছটি আর বাঁচিয়ে রাখতেন না।
                     -সজল আহমেদ
৩৫) সেই মানুষ সৃষ্টির আগ থেকেই নারীদের কাছে সমগ্র মানবজাতী ঋনী। ইভ বা হাওয়া আঃ যদি নিষিদ্ধ ফল না খেতেন আর আদমকে না খাওয়াতেন তাহলে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে বিতরিত হতেন না। আর তাঁরা স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে যদি বিতরিত না হতেন তাহলে মানুষের ও জন্ম হতোনা।
                     -সজল আহমেদ
৩৬) তোকে ভালোবেসে যাবো তুই বাসিস অথবা না বাসিস আমি কেয়ার করিনা, তোকে ছাড়া অন্যকাউকে আমি ভালোবাসি না।
                     -সজল আহমেদ
৩৭)  আমি তোমার জন্য যদিও জীবন বিকিয়ে দেবোনা, তবুও প্রতিজ্ঞা করে বলছি, আমি তোমাকে যতটা ভালোবাসি, অন্যকেউ পারবেনা। 
                     -সজল আহমেদ

৩৮)।। কবি।।
কাউকে না পাত্তা দেবার নাম হলো কবি। এমনকি ঈশ্বরকেও!
                     -সজল আহমেদ
৩৯) ।।ভালোবাসা।।
দুটো মনের মিলন এখানে বাধ্যগত করেছে বোকাচোদার দল। অথচ একতরফাও ভালোবাসা হতে পারে।
                     -সজল আহমেদ
৪০)।। ঘৃণা।।
লাশের খাটিয়ায় মূত্র বিসর্জন দেবার আকাঙ্খাকে বলে ঘৃণা।
                     -সজল আহমেদ
৪১)।। শোক।।
কাঁদতে কাঁদতে যে চোখে রক্ত আনতে জানেনা আদৌ তাঁর শোক স্থায়ী কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে!
২.
কারো শোক চিরস্থায়ী নয়। তাতে সে মা কিম্বা স্ত্রী হোক।
                     -সজল আহমেদ
৪২)।। ডিপ্রেশন।।
নিজেকে নিজের বাইঞ্চোদ মনে হওয়াকে বলে ডিপ্রেশন।
                     -সজল আহমেদ

৪৩)।। আপন।।
পৃথিবীতে শুধুমাত্র আপন বলতে আছে নিজের ছায়াটা। তাও মাঝেমাঝে বেঈমানী করে।
                     -সজল আহমেদ
৪৫)।।শত্রুতা।।
বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী না হলেও শত্রুতা চিরস্থায়ী হয়।
                     -সজল আহমেদ

৪৬)।। বাপ।।
বাপের মতো তালৈ হয়না কিন্তু তালৈর মতো বাপ হয়।
                     -সজল আহমেদ

৪৬)।। মা।।
মায়ের মতো মাসি হয়না। মা ও কখনো মাসি হয়না।
                     -সজল আহমেদ

৪৭)।। পুত্র।।
পৃথিবীর প্রত্যেকটা পুত্রই একটা আনকোড়া বেঈমান, ছোটলোক, অকৃতজ্ঞ এবং অজ্ঞ।
                     -সজল আহমেদ
৪৮)।। কন্যা।।
কন্যারা বৌ হতে ভালোবাসে। বউ হবার পর পুনরায় কন্যা।
                     -সজল আহমেদ


৫০)।।পুত্রবধু।। 
অপরের কন্যা নিজের কন্যার মতো হলে বুঝতে হবে পৃথিবী ধ্বংস হতে আর হাতেগোণা কয়েকটা দিন আছে!
                     -সজল আহমেদ

৫১)।। মিথ্যা।।
পুরো পৃথিবীটাই যেখানে মিথ্যা সেখানে তুমি সত্যবাদী খুঁজছো কার স্বার্থে?
                     -সজল আহমেদ


৫২)।। সত্যবাদী।।
সত্যবাদী আমার কোন চুদির্ভাই? পৃথিবীতে কোন সত্যবাদী নেই এমনকি সে যদি অলী/পীর/ সাধুও হয়। কখনো না কখনো সে মিথ্যে বলেছেই।
                     -সজল আহমেদ
৫৩) পৃথিবীতে কোন সত্যবাদী প্রেমিক নেই। যে প্রেমিক বলে আমি মিথ্যা বলিনি, ও প্রেমিক না মেটাল থিংগস বা রোবট।
                     -সজল আহমেদ
৫৪) কিছু কিছু মানুষ আছে যারা মিথ্যাকে রং তুলির আচড়ে একেবারে সত্য করে তুলতে ওস্তাদ! যখন তাদের মিথ্যে প্রকাশ হয় তখন তাঁরা ওটাকে ঢাকতে  নানারকম ফন্দি আঁটে, কিন্তু ইতোমধ্যে তাঁরা যে সবচেয়ে বড় মিথ্যেবাদী তা প্রমাণ হয়ে যায়।
                     -সজল আহমেদ
৫৫) আপনি প্রেমিকাকে যত সন্দেহ করবেন ও ততই সন্দেহ বাড়িয়ে চলবে। তারচে ওকে স্বাধীনতা দিন, যাতে নিজের মতো চলতে পারে। যদি, আপনার ভালোবাসা সত্য হয় তবে ওঁর ফিরে আসতেই হবে।
                     -সজল আহমেদ
৫৬) আপনার প্রেমিকা আপনাকে বলদ ভাববেই, ওতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। প্রেমে পতিত হওয়ার পর প্রত্যেকটা প্রেমিকই একেকটা বলদ হয়ে যায়। 
                     -সজল আহমেদ
৫৭) আপনি যাকে ভালোবাসেন ওকে বুঝাতে চেষ্টা করেন আপনি ওকে কতটা ভালোবাসেন। আর হ্যাঁ এরপর ও যদি চলে যায় তবে ওকে চলে যেতে দিন।
                     -সজল আহমেদ
৫৮) মানুষ মাত্রই গুটিবাজ।
                     -সজল আহমেদ
৫৯) প্রেমিকা বিচ্ছেদ হলে আপনি কাঁদতে থাকুন, যতক্ষণ না আপনি ওকে ভুলতে পারেন।
                     -সজল আহমেদ
৬০) মানুষ মাত্রই পঁচনশীল।
                     -সজল আহমেদ

সজল আহমেদ এর ৬০টি প্রবচন সজল আহমেদ এর ৬০টি প্রবচন Reviewed by তৌহিদ আজগর - Tawhid Azgor on ১১:৩৩ AM Rating: 5
Blogger দ্বারা পরিচালিত.